সিলেটের পুরাতন জেলকে ‘শেখ মুজিব পার্ক করতে চাই -পররাষ্ট্রমন্ত্রী-

মোহাম্মদ হানিফ, সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০
  • ১৭৩৯ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত পুরাতন জেলকে আমি ‘শেখ মুজিব পার্ক’ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন সিলেটের মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলার কোন জায়গা নেই। তাই একটা পার্কের খুবই দরকার।শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহস্থ সদর উপজেলা মাঠে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ৬ষ্ঠ সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘দেশের সব শহরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার করা যেতে পারে; বিভিন্ন দেশেও এমন ট্রেড সেন্টার রয়েছে, যেখানে সারাবছর মেলা হয়ে থাকে।
মুজিববর্ষে আমাদের দাবি হওয়া উচিত সিলেটে একটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার করার। আপনারা জমি দেখবেন। জমি শহরের মধ্যে হবেনা, একটু দূরে হলেও হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি আফজাল রশিদ চৌধুরী।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের ১ম সহ-সভাপতি ও মেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সিলেট শহরে এমন কোন স্থান নেই যেখানে চেম্বারগুলো বাণিজ্য মেলা করতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট শহরে মাঠ নেই। কিন্তু নদীর ওপারে অনেক খোলা জায়গা রয়েছে। সেখানে চার-পাঁচটি মাঠ করা যেতে পারে। মাঠ করতে পারলে খেলাধুলার পাশাপাশি মেলার আয়োজনও করা যাবে। মাঠ থাকলে বাণিজ্যিক মেলা আয়োজন করা যাবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, শহরের আনাচে কানাচে খোলা জায়গা ছিল যেখানে আমরা খেলা করতে পারতাম। আর এখন খোলা জায়গা পেলেই স্থাপনা তৈরি করা হয়। এর ফলে স্থানীয় নাগরিকরা ভোক্তভোগী হন। আমি আশা করি এ বিষয়ে নাগরিকরাই স্বোচ্ছার হবেন।’
সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় উপস্থিত হতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট মেলাকে ১৫৫ স্টল ও ৩৫ প্যাভেলিয়ান এসেছে। এ কারণে খুব খুশি হয়েছি। আমি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর রিকোয়েস্টেই আমি এই মেলার উদ্বোধন করেছি।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন- সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি, সিলেট জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মো.শোয়েব, বর্তমান পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন আহমদ, সাবেক পিপি এডভোকেট মোশাহিদ আলী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়।

অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি মাওলানা খায়রুল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি হুরায়রা ইফতার হোসেন, পরিচালক মো. ইলিয়াসুর রহমান, সুমেয়াত নুরী চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান, মাহমুদুর রহমান, অজয় কুমার ধর, মো. সিদ্দিকুর রহমান, রাজিব ভৌমিক, শান্তু দত্ত সন্তু, মো, আব্দুর রহমান রিপন, মো. আলিমুছ ছাদাত চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মাহমুদ বক্স রাজন, মোয়াশির হোসেন চৌধুরী, সদস্য জয়নাল আহমদ রানা, মো. মঈনুল ইসলাম মঈন, মো. সফিউর রহমান, মো. ফয়েজ আহমদ চৌধুরী, আব্দুল গাফফার, আব্দুল লতিফ রিপন, জোমাদিন আহমদ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা