চা বাগানে প্রথম ২ চা শ্রমিক সন্তান করোনায় অাক্রান্ত

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪২১৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ হবিগন্জের লস্করপুর ভ্যালীর অন্তর্গত চন্ডিছড়া চা বাগানে অাবাস তন্তুবায় ( ৫) এবং অভিষেক তন্তুবায় ( ২২) নামে প্রথম ২ চা শ্রমিক সন্তান বিশ্বকাপানো করোনাভাইরাসে অাক্রান্ত হয়েছে ।

চুনারুঘাট উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জনের মধ্য করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয় এর মধ্য চন্ডিছড়া চা বাগানের ৫ বছরের ক্যান্সারে অাক্রান্ত রোগী অাবাস তন্তুবায় এবং শিশুর সংস্পর্শে থাকা ২২ বছরের যুবক চাচাতো ভাই অভিষেক তন্তুবায়। ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে তারা করোনার কবলে পড়েছিলেন। অপর দিগে বাকি ২ জনের মধ্যে ১ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকাল অফিসার ডঃ দুলন চন্দ্র দেব ও ঐ কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মাসুক মিয়া লস্কর। এ দুজনের অাক্রান্তের হিষ্ট্রি পাওয়া যায়নি তবে ধারণা করা হচ্ছে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে অাগত কোন করোনা পজেটিভ রোগীকে সেবা প্রদান করে ছিলেন।

ডাক্তার দুলন চন্দ্র দেব বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা আর মাসুক মিয়া লস্কর চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

পুরো উপজেলাসহ লস্করপুর ভ্যালী প্রতিটি চা বাগানেই অাতঙ্গিত হাজারো চা শ্রমিকরা। চা বাগান গুলো লকডাউন না দেওয়া হলে করোনা ভাইরাস চা বাগানে ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করেন চা শ্রমিকরা। অামু, নালুয়া, চান্দঁপুর, রামগঙ্গা চা বাগানে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। বহিরাগতদেন অাগতে সম্পূর্ণ নিষেধ দেওয়া হয়েছে।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা