দারাগাঁও চা বাগানে দিনে দুপুরে হাত পা বেধেঁ ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০
  • ২৯৫৯ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ হবিগঞ্জে চুনারুঘাট থানার দারাগাঁও চা বাগানের (পাকা লাইনের) মৃত পরেশ সাওতাল চা শ্রমিকের মেয়ে এস সাওতাল (১৪) কে ছদ্মনাম। গত ১৬ জুন মঙ্গলবার পরিবারের লোকজন কাজে থাকায় বাড়ীতে একা পেয়ে দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় এস সাওতাল কে হাত পা মুখ দড়ি দিয়ে বেধেঁ অমানুষীক ভাবে নির্যাতন করে ধর্ষণ করে একই বাগানের বিপেশ বুনারজী (৪০)। তাকে সহযোগিতা করেন দিপাল বুনার্জী ( ৩৫)বুলবুল গোয়ালা (২৭)। দিন দুপুরে নিজ ঘরে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করার চেষ্টা করে দূর্বত্তরা।

ভিকটিমের মা মিনা সাঁওতাল বাগানের কাজ শেষে আনুমানিক ৫টার দিখে বাড়ী ফিরেন এসে মেয়ে কে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন মেয়ের হাত পায়ের বাদন খুলেদেন। পরে মা ঘটনাটি দারাগাও ৮নং সাটিয়াজুড়ি ইউ পি সদস্য মাহবুব আলীকে বিষয়টি জানান, উনি বলেন আমরা উপযুক্ত বিচার করে তার সমাধান করে দিব।

ধর্ষিতার মা চা শ্রমিক ডটকমকে জানান আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে তারা আর ও বলেন এই ঘটনাটি অন্য কাউকে না বলতে বিপেশ বুনারর্জী লোকজন বলে প্রশাসনিক বা অন্য কাউকে বললে তারা আমাকে এই গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে দিবে। পরে আমি ভয়ে আর কাউকে কোন কিছু বলি নাই দিন ঘনিয়ে আসলে দু’একদিনের মধ্যেই মেয়ের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে এমনতো অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ খবর শুনে বিপেশ বুনারজী ধর্ষণকারী পরিবারের লোকেরা আমার পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করে তাড়াতাড়ি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে আসার জন্য। এমতাবস্থায় বাপ হারা মেয়েদেরকে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব কার কাছে যাব এই বলে কান্নাকাটি করেন প্রশাসনিক, চেয়ারম্যান-মেম্বারহ সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে বিচার চাই।
ভিকটিম সুত্রে যানাযায়ঃ আমি ঘরে একা ছিলাম হটাৎ করে তিন জন আমার ঘরে ডুকে পরে বুনারজী ছেলে বিপেন বুনারজী বলে ঘরে কেউ নাই, দিপাল,বুলবুল গোয়ালা আমাকে মারধর করে হাত পা মুখ বেধে ঘরের বাহিরে চলে যায় তারা পর বিপেশ বুনার্জী আমাকে ধর্ষণ করে মারধর করছে আমাকে ধর্ষন করা হয়েছে কিনা আপনারা যে কোন জায়গায় আমাকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন এই ছেলে আমাকে ধর্ষণ করেছে কিনা। না হলে উপযুক্ত বিচার করবেন আমার। আমার বাবা নেই বলে আমি এতিম ভিকটিম এবছর ৮ম শ্রেণীর জে এসসি পরিক্ষার্থী ছিলেন।
ভিকটিম বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর হাপাতাল চিকিৎসাদিন অবস্থায়া আছেন ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী এস, সাওতাল পরিবারের লোকদের পক্ষে চিকিৎসার টাকা দেবার সামর্থ্য না থাকায় মানুষে কাছ থেকে চাঁদা তুলে চিকিৎসার খরচ বহন করছেন।

এবিষয়ে চুনারুঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করার  প্রস্তুতি চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা