আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে চুনারুঘাটের উৎপলের ফিল্ম 

লিটন মুন্ডা
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৮৯ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ কোভিড -১৯ এর মহমারী ভিত্তি করে ভারতের মণিপুর রাজ্যে মণিপুরী ভাষায় ৩ থেকে ৫ মিনিট এর প্রথম ‘‘খাপরী ইন্টারন্যাশনাল মণিপুরী শর্ট ফিক্সন ফিল্ম ফেস্টিব্যাল এওয়ার্ড লিস্টে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে চুনারুঘাটের উৎপলের তৈরি ফিল্ম। ফিল্মের স্টোরি লিখে তাকে সহযোগিতা করেছেন রংপুর মেডিকেলে অধ্যায়নরত ভারতীয় নাগরিক নিংথোজম বিদ্যারাণী।

জানা যায়, সোরাইজম উৎপল সিংহ চুনারুঘাট উপজেলার  গাজীপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা।  পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত।

সোরাইজম উৎপল সিংহের তৈরি ফিল্মটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২য় ধাপের বাছাই পর্বের  ৪টি  এওয়ার্ডের লিস্টে স্থান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়৷

বিষয়টি  মণিপুর প্রেসক্লাবে নিশ্চিত করেছেন ফেস্টিব্যালের চেয়ারম্যান ডাঃ এস মনউতন সিং । এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেস্টিব্যালের  ডিরেক্টর কে এইচ বিশ্বনাথ মিত্রা, কনভেনর রাকেশ নাওরেম এবং কনশালটেন্ট এন জয়কুমার সিং।

জানা যায়, ফেস্টিভ্যালের পুরস্কার বিতরণী ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ বিকেল ০১:০০ ঘটিকায় মেইপা ভ্যান্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

ফিল্ম নিয়ে জানতে গেলে উৎপল সিংহ বলেন, কোভিড নিয়ে নিজের মেধায় যতটুকু পেরেছি ততটুকু কাজ করতে চেষ্টা করেছি। আমার ফিল্ম আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে বলে আমি আনন্দিত৷

কোভিড -১৯ মহামারীটি বিশ্বজুড়ে মানব সমাজে প্রচুর দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাব সর্বত্র প্রচুর কষ্ট এবং উচ্চতর হতাহতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি সহ একটি প্রতিক্রিয়াশীল সিস্টেম করোনার ভাইরাসের শিকার হিসাবে অনেক প্রিয় এবং নিকটস্থ লোকের ক্ষতি এড়াতে পারে।

এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের এক দৈনিক বাজির গল্প বর্ণনা করেছে যিনি মহামারী চলাকালীন পরিবারের জন্য শেষ করার চেষ্টা করছেন। এই তালিকায় বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের অব্যবহিত গল্পগুলিও প্রকাশিত হয়েছে যারা তালাবদ্ধ হওয়ার ফলে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্র পরিবারগুলির কোনও সমর্থন ছাড়াই নিজেরাই ছেড়ে গিয়েছিল।

তবুও, ফিল্মটি দেখিয়েছে যে কীভাবে লোকেরা অভাবী ব্যক্তিদের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রকারের সাহায্য প্রসারিত করার চেষ্টা করে। শর্টফিল্মটি দর্শকদের আশার এক কিরণে ফেলেছে কারণ এটি মানবসমাজের মধ্যে এই বিপর্যয় মোকাবেলায় সামান্য মানবসমাজের ছড়িয়ে পড়েছে।

শেষ অবধি, রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে সংবেদনশীল সংযুক্তি বিশেষ করে কোভিড -১৯ মহামারীর মতো বড় বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে সংযুক্ত করে চলেছে।

সোরাইজম উৎপল সিংহ আরো বলেন, গল্পটি লিখে দিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও বর্তমানে রংপুর ককমিউনিটি মেডিকেলে কলেজে অধ্যায়নরত নিংথোজম বিদ্যারানী আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। সোরাইজম উৎপল সিংহ তার প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

উল্লেখ্য সোরাইজম উৎপল সিংহ  ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব হবিগঞ্জের  সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা