পনেরো বছর থেকে আত্রাইয়ে গেটম্যানের ঘানি টানছেন জানে আলম  

নিউজ ডেস্কঃ
  • Update Time : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩০৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ নওগাঁর আত্রাই রেল গেটে দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে নাম মাত্র মাইনায় গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন শ্রবনশক্তি প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধ। গেট থাকলেও এখানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন গেটম্যান নেই। সাময়িক ভাবে দুর্ঘটনা এড়াতে  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসিক ৫০০ টাকা দিয়ে নিযুক্ত করা হয় এ বৃদ্ধকে। প্রায় ৬৫ বছর বয়সী মো. জানে আলম শেখ নামের এ বৃদ্ধ শ্রবনশক্তি প্রতিবন্ধী।

 

জানা যায়, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে একটি ও দক্ষিণ পাশে রেল ব্রিজ সংলগ্ন একটি গেট রয়েছে। উত্তর পাশের গেটে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুইজন গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হলেও দক্ষিণ পাশের গেটে কোন গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটতো।

এসব দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৫০০ টাকা মাইনায় আজকের বৃদ্ধ জানে আলম শেখকে গেটম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। সে সময় থেকে আজও বৃদ্ধ জানে আলম শেখ একক ভাবে ২৪ ঘন্টা গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন । এদিকে এ রেল লাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন ও আরও কয়েক জোড়া মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। দিবা রাত্রি একার পক্ষে গেম্যানের দায়িত্ব পালন অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে রাত্রি কালীন সময়ে এ গেটে ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটে।

 

গেটম্যানের দায়িত্বরত জানে আলম শেখ বলেন, আমি দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ঘাণি টেনে আসছি। সরকারী ভাবে আমার আর চাকুরী হবেও না। তবে আমার ছেলের জন্য রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি। তাকে যেন কর্তৃপক্ষ এ চাকুরী দেন।

 

আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেহেতু রেললাইনের উপর দিয়ে এ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তাটিও অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এখানে স্থায়ী গেটম্যান না থাকায় গত কয়েকদিন আগেও একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকল প্রকার দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ দেয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম জোনের শান্তাহার উর্ধতন সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, আহসানগঞ্জ স্টেশনের দক্ষিণ পাশের রেলগেটে গেটম্যান নিয়োগের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আশা করা যায় অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা