বন্য শুকরের কামড়ে প্রাণ গেল   চা শ্রমিকের 

লিটন মুন্ডা,  নালুয়া প্রতিনিধিঃ 
  • Update Time : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৬৩ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃলস্করপুর ভ্যালির নালুয়া চা বাগানে বন্য শুকরের কামড়ে পূর্ণিমা মুন্ডা( ৬০) নামে ১  বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু হয়।

আজ ১১ এপ্রিল রোজ রবিবার   দুপুর প্রায় ১ টায়  নালুয়া চা বাগানের গোটি বাড়ি ১৬ নম্বরে পাশে জঙ্গলে( ভারত-বাংলাদেশ)  লাকড়ি    আনতে গিয়ে পাগল বন্য শুকর বৃদ্ধ পূর্ণিমার উপর আক্রমন করলে গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।

আহত অবস্থায় উপস্থিত কিছু লোকজন উনাকে দুপুর ২ টায় নালুয়া চা বাগানের হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে আসে হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিত থাকায় সিএনজি এর মাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে যাওয়ার সময়েই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত পূর্ণিমা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতে দাগ রয়েছে।   মূখের গালে ও বুকের ডান(স্তনে) পাশে দাঁতের কামড়ের ও প্রচন্ড  রক্ত দেখা যায়।

পূর্ণিমা মুন্ডা নালুয়ার পশ্চিমটিলার মৃত গোপেশ মুন্ডার সহধর্মিণী ছিলের উনার একটি মাত্র মেয়ে ছিলো।  প্রতিদিনেই সে অন্যান্য মহিলাদের সাথে নিজের ঘরের জন্য শুকনো ডালপালা আনার জন্য যেতেন। পূর্ণিমা মুন্ডা খুব চঞ্চল স্বভাবে মহিলা ছিলেন হাসি- খুশি সাথে থাকতই। তবে কানে শুনতে পারতো না বেশি এর জন্য উনাকে বয়রি বলে ডাকতে সবাই।

পূর্ণিমার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে চা বাগান বাসী দূঃখ প্রকাশ করেন এবং দেখার জন্য ভীড় জমা করেন।

খবরটি চুনারুঘাট প্রশাসক নিকট গেলে চুনারুঘাট পুলিশ টিম মৃত্যু ব্যক্তিকে পরিদর্শন করতে  আসেন।  জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর না পাওয়া পর্যন্ত লাশের দাফন কাজ হবে না বলে স্থায়ীরা জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা