নালুয়া চা বাগানে  সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সহরায় পালন 

লিটন মুন্ডা, লস্করপুর ভ্যালি   প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৬৮ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালির  নালুয়া চা বাগানে আজ ( ১৫ এপ্রিল) বৃহস্পতিবারে দুপুর থেকে সন্ধ্যা নানান আয়োজনে এ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।  বন্য জঙ্গলের নানা রকমের ফলমূল বঙগা দেবতাদের কাছে অর্পণ করে এবং নিজের ব্যবহার করে থাকে।

 

আদিবাসী জনগোষ্ঠি সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সহরায়। সহরায় উৎসব হয়ে থাকে কার্তিক মাসে। তাই সাঁওতালি বর্ষপুঞ্জিতে কার্তিক মাসকে ‘সহরায় বঙগা’ বলে। তবে অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের সাঁওতালরা পৌষ মাসে সহরায় পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক পৌষ সংক্রান্তিতে সারা বাংলাদেশের সাঁওতালদের মাঝে একযোগে সহরায় পালনের প্রচেষ্টা দেখা যায় । সহরায় উৎসবে মানুষসহ গৃহপালিত প্রাণির ও মঙ্গল কামনা করা হয় ঠাকুর জিউ-ঠাকরাণ(স্রষ্টা) এবং বঙগা(দেবতা)দের কাছে ।

 

বিভিন্ন দলিল, শ্রুতি ও সহরায় গান থেকে জানা যায় সান্তাল সমাজে সহরায় পাঁচ পর্বের।এই পাঁচ পর্ব পাঁচ দিন ধরে পালন করা হয়। সময়ের প্রয়োজনে অনেক গ্রামেই তিন দিনে এই পাঁটি পর্ব পালন করা হয়ে থাকে। পর্ব গুলো হলো- উম, দাকা,  খুন্টাউ, জালে,  সাকরাত।

 

 

সাঁওতালদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সহরায়। এই উৎসব অক্টোবর-নভেম্বর এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে হয়। প্রথমটিকে বলা হয় – সারি সহরায় এবং দ্বিতীয়টিকে বলা হয় – সাকারাত সহরায়। কেন এবং কখন থেকে এই বিভক্তি এ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না। তবে ধারণা করা হয় অর্থনৈতিক কারণেই এই বিভক্তি হতে পারে। তবে প্রতি বছর যেকোন একটি পালন করা হয়ে থাকে। সে হিসেবেই আজ সহরায় উৎসব উৎসব মূর্খর পরিবেশে না হলেও যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করেছে নালুয়া চা বাগানের সাঁওতাল আদিবাসীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা