সমস্যার সমাধান হয়নি এখনো সাতগাঁও চা বাগানের 

রাম সিং,বিশেষ প্রতিনিধি:-
  • Update Time : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ২৬৯ Time View

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চা বাগানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানের লক্ষে ২৪ মে সোমবার স্থানীয় উপ-শ্রম অধিদপ্তরে মালিক-শ্রমিক ও সরকারদলীয় ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপ-শ্রম পরিচালক নাহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সোমবার দুপুর ১২ টা হতে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয়পক্ষের মধ্যে কোন সমাধান হয় নি। ফলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাটি পন্ড হয়ে পরে। সভার কোন রেজুলেশন কপি বিতরণ করা হয়নি বলে জানান শ্রমিকরা।

এদিকে সাতগাঁও চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদকে চাকুরী হতে প্রত্যাহার করে অবৈধভাবে বহিস্কৃত চা শ্রমিক শ্যামল কুর্মীকে চাকুরীতে বহাল রাখার দাবিতে ৮ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বাগানটির চা উৎপাদন।

 

 

বাগানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষে বাগান মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ ও সরকারদলীয় ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট বিভাগীয় চেয়ারম্যান ফিনলে টি কোম্পানীর ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম গোলাম শিবলী, সাতগাঁও চা বাগান ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিলা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র বারাইক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আছকির মিয়া, সাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মিলন শীল, ইউপি সদস্য ঈশ্বর কালিন্দী, শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুনসহ বিভিন্ন বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শ্রমিকপক্ষের দাবি উপেক্ষা করা হয় বলে জানান চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী। তিনি বলেন, বাগান কর্তপক্ষ শ্যামল কুর্মীর বিরোদ্ধে থানায় অভিযোগের নিমিত্তে কালিমালিপ্ত ভাবে চাকুরীচ্যুত করার আপচেষ্টা করছে, যা শ্রম আইনের ২৬ ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

শ্রীমঙ্গলস্থ আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ-শ্রম পরিচালক নাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্যামল কুর্মীর উপরে ২৬ ধারা স্থগিত রেখে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হলে শ্রমিকপক্ষ তা কোনভাবেই মানছে না।

চা শ্রমিকরা বলেন, শ্রমিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনের কারণে সহকারী ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ ইতোপূর্বে জাফলং চা বাগান হতে বহিস্কার হয়ে সাতগাঁও চা বাগানে যোগদান করার সাথেসাথেই এখানেও শ্রমিকদেরকে অহেতুক হয়রানী করছেন তিনি। তাই ইফতেখার আহমদকে দ্রুত চাকুরী হতে প্রত্যাহার করা না হলে আরো বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় চা শ্রমিকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা