ব্যবস্থাপকের অপসারণ হলেই কাজে ফিরবেন চা শ্রমিকরা  

লিটন মুন্ডা, লস্করপুর ভ্যালি   প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ৪২১ Time View

দফায়  দফায় বৈঠক হলেও এখনো ব্যবস্থাপকের অপসারণ দাবি অব্যাহত রেখেছেন চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা বাগান শ্রমিকরা।

ম্যানেজার ইফতেখার এনামের অপসারণ হলেই কাজে ফিরতে চান তারা। এর আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা তাদের।

৩১ মে (সোমবার) স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশ ও একাধিক বাগান ব্যবস্থাপক সহ শ্রমিক নেতাদের সমাধান কল্পে বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রমিক নেতারা ম্যানেজার ইফতেখার এনামের অপসারণ  দাবী জানান আবারও। তখন ফ্যাক্টরির বাহিরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিলেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, গত শুক্রবারের ঘটনা শনিবারেই শেষ হয়ে যেতো। যদি ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করতেন।

এখন পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি যদি স্বপদে বহাল থাকেন তাহলে এই আন্দোলনে যারা সামনে ছিলেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থাকে। তাছাড়া বিগত সময়ে শ্রমিকদের সাথে উনার আচার-আচরণ খুবই খারাপ ছিল।

সমাধান হিসাবে উনার অপসারণের বিকল্প কিছু ভাবতে পারছেন না তারা।

চা বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে বক্তারা  বলেন, সামান্য একটা ভুলের কারণে একজন ব্যবস্থাপককে অপসারণ দাবি যৌক্তিক নয়।  বাগানের কাঠগুলো বের করার প্রক্রিয়ায় তার ভুল ছিল। কাজ করার ক্ষেত্রে এমন ছোট-খাটো ভুল হতেই পারে।

আচার-আচরণে ভুল হয়ে থাকলে সেটাও সমাধান যোগ্য।

নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বক্তব্যে প্রস্তাব রাখেন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

কিন্তু শ্রমিকদের হৈ হুল্লোড়ে বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যায়।

তারা বারবার ম্যানেজার ইফতেখার এনামকে চোর আখ্যা দিতে থাকেন।

তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলে জানান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক দাম, ইউপি চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরী, আমু চা বাগান ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম চৌধুরী, লস্করপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক তারিফ আহমেদ, নালুয়া চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার ইমতিয়াজ মান্নান সহ অন্যান্য চা- বাগান কর্মকর্তা।

শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন, বাংলাদেশ  চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ন সেক্রেটারি – নিপেন পাল,   লস্করপুর ভ্যালির সভাপতি – রবীন্দ্র গৌড়, ভ্যালি, সাধারণ সম্পাদক  – অনিরুদ্ধ বাড়াইক, চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি মেম্বার নটবর রোদ্রপাল, চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি মেম্বার মাখন গোস্বামী, চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি মেম্বার চন্দ্র তাতী,

 

চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি মহিলা  মেম্বার বিজলা কানু প্রমূখ।

বিষয়ে গত ২৯ মে শনিবার স্থানীয় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে নালুয়া ব্যবস্থাপনা কমিটির  সমঝোতা বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায়

দ্বিতীয় বৈঠকটি হয়।

 

আগামীকাল থেকে আবারও কর্মবিরতি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মে শুক্রবার সকালে বাগানের নিজস্ব গাড়ি ও শ্রমিক থাকতে

ভাড়া করা গাড়ি সিকিউরিটি ইনচার্জ মনিরুলকে দিয়ে  প্রায় ১৫০ ঘনফুট সেগুন কাঠ  বাগানের বাহিরে পাঠানোকে পাচার আখ্যা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা