মৌলভীবাজারে খাসিয়া-গারোদের সহস্রাধিক পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৪১৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ পান চাষ আয়েই জীবিকা নির্বাহ করে আগার পান পুঞ্জির ৪৮টি খাসিয়া-গারো পরিবার।

 

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ছোটলেখা চা বাগানের আগার পান পুঞ্জির সহস্রাধিক উৎপাদনশীল পান গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ ঘটনায় আগার পান পুঞ্জি প্রধান সুখমন আমসে সোমবার বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

 

এ পানের আয়েই জীবিকা নির্বাহ করে আগার পান পুঞ্জির ৪৮টি খাসিয়া-গারো পরিবার। দুর্বৃত্তের এমন নির্মমতায় তাদের পথে বসার উপক্রম।

 

সুখমন আমসে জানান, আগার পান পুঞ্জির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ছোটলেখা চা বাগানের লিজ নেওয়া টিলা ভূমিতে পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পান বিক্রির টাকায় তাদের খাওয়া, সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বিয়ে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানসহ সব সামাজিক কর্মকাণ্ড চলে।

 

আজ দিনের যেকোনো সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের পান জুমের সহস্রাধিক উৎপাদনশীল পান গাছ কেটে ফেলেছে। বিকালে তারা বিষয়টি দেখতে পান। এতে তাদের ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন পান গাছ কেটে ফেলায় পরিবারগুলোর পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, ‘আগার পান পুঞ্জি প্রধানের কাছ থেকে তাদের উৎপাদনশীল পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ ও এম আই বলেন, ‘আমার ধারণা জুম দখল করার জন্যই দুর্বৃত্তরা পান গাছগুলো কেটে দিয়েছে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন পান গাছ কেটে ফেলায় পরিবারগুলোর পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা