চা শ্রমিকদের দৈনিক নূন্যতম মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণ না করা হলে কঠোর আন্দোলন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০
  • ১২৭৭ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃচা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দৈনিক নগদ মজুরি ন্যূনতম ৪০০টাকা নির্ধারণসহ ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আজ ৬ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চা শ্রমিকদের দৈনিক নূন্যতম মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণ না করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।

সে সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন স্কপ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়কারী নাইমুল হাসান জুয়েল, বিসল্ এর সিনিয়র অফিসার খন্দকার আব্দুস সামাদ, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বদশা, জাতীয় শ্রমিক জোট এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ, সমগীত গানের দলে বিথী ঘোষ, চা শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এডভোকেট জুনায়েদ আহমদ, আবু জাফর, আবুল হাছান, প্রণব জ্যোতি পাল ও বিভিন্ন চা বাগানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কাজল রায়, গনেশ নাইড়ু, প্রেম কুমার পাল, কিরন বৈধ, রতন গড়াইত, লিটন কুমার মৃধা, বিকাশ রূদ্র পাল মন্টু, প্রণব বাগতী, খায়রুন আক্তার, মানতি কালিন্ধী, অনিমা বসাক, সন্ধীপ রঞ্জন নায়েক, ময়না দাস, অরুণ পানিকা প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দিপংকর ঘোষ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে চা শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন হলেও এখন পর্যন্ত দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৪০০ টাকা ঘোষনা করা হয়নি। ন্যুনতম ৪০০টাকা মজুরির দাবিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন এর উদ্যোগে মিছিল, সমাবেশ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর ও মজুরি বোর্ডে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

এছাড়াও দাবির পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ,সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চা শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্টিত হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দৈনিক নগদ মজুরি ন্যূনতম ৪০০টাকা নির্ধারণসহ ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে বলে জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা