প্রবাসীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে – মন্ত্রী ইমরান আহমদ

মোহাম্মদ হানিফ,হাবিবনগর চা বাগান
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১৬০ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ-করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রবাসে বাংলাদেশিদের খাদ্যসহ অন্য সমস্যা সমাধানে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এজন্য বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনারদের চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেয়া চিঠিতে মন্ত্রী, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদেরকে সম্ভব সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য রাষ্ট্রদূত / হাইকমিশনারদের বলেছেন।

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী ও ডায়াস্পোরার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন চিঠিতে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে
মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ মিশনের যৌক্তিক চাহিদানুযায়ী সেখানকার বাংলাদেশি কর্মীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

একই পত্রে বর্তমান সময় এবং করোনাভাইরাস উত্তর সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে একটি সুপারিশমালা প্রেরণের জন্য মন্ত্রী তাঁদেরকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, কোন প্রবাসী যাতে কষ্টে না থাকে সেজন্য সজাগ রয়েছেন তারা। মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে করোনাভাইরাসে প্রভাবে বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে কর্মীদের কাজ বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে কোন বাংলাদেশি যাতে খাবার কষ্টসহ কোন প্রকার সমস্যায় না থাকেন সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইমরান আহমদ জানান, একজন প্রবাসীও যাতে খাবার কষ্ট না পান, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দূতাবাসে শ্রম উইংগুলোকে নির্দেশ দেয়া রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার কমে যাওয়ার পর শ্রমবাজারে কী ধরণের প্রভাব পড়তে পারে, তারও একটি ধারণা চাওয়া হয়েছে দূতাবাসের কাছে। তিনি বলেন, জনশক্তি খাত যাতে কোন নেতিবাচক প্রভাবে না পড়ে এজন্য সম্ভব সব কিছু করা হচ্ছে।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য এরইমধ্যে অর্থ বরাদ্দ শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ লাখ ও কাতারে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্য দূতাবাস ও শ্রম উইংকে প্রয়োজন অনুযায়ি চাহিদা দিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শ্রম উইং প্রস্তাব পাঠানোর কাজ করছে। তবে কত প্রবাসী খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে সময় লাগছে বলেও জানিয়েছেন শ্রম কাউন্সেলররা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা