কমলগঞ্জের ৪টি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৯৩২ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববতী রাজনগর উপজেলাার আকুয়া গ্রামে করোনায় মৃত ব্যক্তির পার্শবর্তী গ্রাম গোপালনগর হতে এক ব্যক্তি কমলগঞ্জের পতনউষারে শশুর বাড়িতে অবস্থান করায় ৪টি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় ২নং পতনঊষার ইউনিয়নের উত্তর পতনউষার মফিজ মিয়ার বাড়িসহ ৪টি বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশেকুল হক। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা য়ায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী পতনউষার ইউনিয়ন হতে মাত্র ৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত রাজনগর উপজেলার করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির গ্রাম আকুয়া। ওই গ্রামের পাশ্ববর্তী গোপালনগর গ্রাম হতে সোমবার সকালে এক ব্যক্তি তার শ^শুড় বাড়ি উত্তর পতনউষারে মফিজ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতংক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ ও মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মফিজ মিয়ার পরিবারসহ আশপাশের ৪টি বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করেন। এসময় বাড়ির সীমানায় লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় এবং আশপাশে কেউ যাতায়াত না করার নির্দেশ দেয়া হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন, রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নটি লকডাউন করা হয়েছে। মৃত ওই ব্যক্তি পাশের গ্রাম গোপালনগর হতে একটি লোক পতনউষারের শশুর বাড়ি আসায় ৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। যাতে করে অন্য মানুষের সংস্পর্শে বাড়ির লোকজন না যায়। ৫টি পরিবারকে স্থানীয় চেয়ারম্যান খাদ্য সামগ্রী বাড়িতে পৌছে দিবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা