কিসের ত্রাণ- তারা আমার বোনকে বিয়ে করবে, নাকি আমি তাদের বোনকে বিয়ে করব?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১০৭ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ রোনাভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশ কার্যত লকডাউন। আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে জীবন-যাপন করছে মানুষ। সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। সরকারিভাবে দুস্থ, অসহায় মানুষদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। এই মানুষদের বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করতে সরকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নেই জনগণের পাশে। দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মতো কার্যক্রমে নেই অধিকাংশ এমপি। জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

করোনা দুর্যোগে জনগণের পাশে না থাকা জনপ্রতিনিধিদের একজন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তিনি কোথায় আছেন জানে না তার এলাকার লোকজন।

এ অবস্থায় করোনা দুর্যোগের কথা জানিয়ে ত্রাণসামগ্রী চাইলে নিজ এলাকার এক অসহায় ব্যক্তিকে তুলোধুনো করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। একই সঙ্গে ত্রাণ চাওয়া ব্যক্তিকে হাওরে ডুব দিতে বলেছেন তিনি। সুলতান মনসুরের সঙ্গে ওই অসহায় ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয়েছে।

করোনা সংকটে ত্রাণ চেয়ে সুলতান মনসুরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজাররে কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতাবী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। সুলতান মনসুরের সঙ্গে ওই ব্যক্তির মোবাইলে কী কথোপকথন হয়েছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো;

ফোনের ব্যক্তি : ‘হ্যালো এমপি সাব (সাহেব), প্রতাবী থেকে বলতেছি।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতাবী তো একটা জায়গার নাম।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘পূর্ব প্রতাবী হাজি ফুরকান আলীর বাড়ির পাশ থেকে বলছি।’

সুলতান মনসুর : ‘নাম কউ নাম, নিজের নাম কউ।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘বলছিলাম, আপনি এলাকায় নাই নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘আমি আছি যেখানে থাকার সেখানে। কেন কিতা হইছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না বলছিলাম; বর্তমান পরিস্থিতে আপনাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমাদের ঘরে গিয়ে আমি রান্না করে দেব নাকি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না বলছিলাল; কুলাউড়ায় আসবেন না নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘কেন আসব না? প্রয়োজনে যাব। ঘর থেকে বের হবে না, শুনোনাই ডাক্তারের কথা?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘শুনেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দিকে যদি একটু খেয়াল রাখতেন।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতি ওয়ার্ডেই তো সাহায্য যাচ্ছে।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘ওসব ত্রাণ তো মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছে মানে, তা কি মক্কা শরিফ থেকে এসেছে নাকি?। তারা কি তাদের বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে? নাকি তোমার বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘তারা তো তাদের তহবিল থেকে দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তাদের তহবিল কিসের? এটা আমাদের তহবিল। তাদের কোনো তহবিল নেই।’

ফোনের ব্যক্তি : না বলছিলাম; এলাকার মানুষ আপনাকে নিয়ে নানা কথা বলতেছে।’

সুলতান মনসুর : ‘কি বলতেছে?’

ফোনের ব্যক্তি : ‘সবাই বলতেছে, আমাদের এমপি সাহেবকে দেখছি না, ভোট দিলাম। তিনি বিপদে আমাদের পাশে নেই।’

সুলতান মনসুর : ‘এমপি সাহেব নাই। কিসের ত্রাণ। তারা আমার বোনকে বিয়ে করবে, নাকি আমি তাদের বোনকে বিয়ে করব?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না, আসলে অনেক মানুষ বলতেছে আপনি এলাকায় আসেন না।’

সুলতান মনসুর : ‘ফালতু মানুষজনের তো আর কোনো কাজকাম নেই। আমি কি এলাকায় বিয়ে করতে যাব? এসব আলাপ আমার সঙ্গে করবা না। যার যার কাজ সে করবে। মেম্বার-চেয়ারম্যান কি
বাবার ঘর থেকে খাবার দিচ্ছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিবদের কিছু খাবার দেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তুমি গরিবনি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিব।’

সুলতান মনসুর : ‘….(অস্পষ্ট)। না পারলে ভূকশিমইল হাওরে গিয়ে ডুব দে।’ (কুলাউড়া-ভূকশিমইল সড়কের পাশে হাকালুকি হাওরের অবস্থান)।

সুলতান মনসুর : ‘তোমার মা-বাবা তোমাকে জন্ম দেননি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি, দিছইন।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমার মা-বাবাকে খাওয়াতে বল। ফোন রাখো, রাখো টাউট, বাটপার সবটি। রাখো ফোন রাখো।’

ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, আমি এসবের কিছুই জানি না।

এলাকা থেকে মোবাইলে ত্রাণ সহায়তা চাওয়া কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আই ডোন্ট নো।’

সুত্রঃস্বাধীন বাংলা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা