সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসকের আশপাশে থাকা ১৬ জনের কারো শরীরে করোনা ধরা পড়েনি।

অনলাইন ডেস্কঃ
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৯৮৫ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসকের আশপাশে থাকা ১৬ জনের কারো শরীরে করোনা ধরা পড়েনি। তাদের সবার করোনা টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এর আগে গত রোববার সিলেটে প্রথম এক চিকিৎসকের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর মানুষের মাঝে এক অজানা ভীতি দেখা দেয়।

এ অবস্থায় আক্রান্ত ওই চিকিৎসক ১৬ জনের একটি তালিকা দেন করোনা পরীক্ষা করার জন্য। এর মধ্যে তার পরিবারের সদস্য, গাড়ী চালক, চেম্বারে কাজে নিয়োজিত লোক ও একটি হাসপাতালে কর্মরতসহ মোট ১৬ জনকে গত বুধবার (০৮ এপ্রিল) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। তবে পরীক্ষায় তাদের কারো শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি।

এর আগেও দু’দিনে সিলেটে মোট ১১৮ জনের পরীক্ষায় সবারই করোনা নেগেটিভ এসেছে। সেই সাথে এই ১৬ জনের শরীরেও করোনা ধরা পড়েনি। এতে অনেকেই নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন- ‘একজনের করোনা পজেটিভ হয়েছে, এর মানে নয় যে তার সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও করোনা পজেটিভ হবে।’

ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোন ব্যক্তির শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তাহলে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে গেলেও এই ভাইরাস অন্যজনের নাও হতে পারে। আক্রান্ত চিকিৎসক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মেনে চলেছেন। যার কারণে তার কাছ থেকে এই ১৬ জনের শরীরে করোনা না ছড়াতে পারে। এছাড়া হয়তো এই ১৬ জনের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ছিল বেশি।’

এছাড়া তিনি কোভিড-১৯ সম্পর্কে আরেকটি বিষয় বলেন, এক জনের যদি করোনা ধরা পড়ে, তার সাথে যদি আরো ১০০ জন লোক মিশেন সবার করোনা হয়ে যাবে তা এমন নয়। তিনি বলেন, এই রোগটি নতুন। আমরা চীনের বিভিন্ন বিষয় দেখে জেনেছি যে, এই ১০০ জনের মধ্যে ২০ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ হয় বেশি। এবং যারা বিভিন্ন রোগে ভোগছেন তাদের শরীরে করোনা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

বাকি ৮০ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে না, কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে বেশি। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে, করোনা শরীরে প্রবেশ করলেও এক সময় শরীরের সাথে যুদ্ধ করে হেরে যায় এ ভাইরাস।’

সতর্কতা হিসেবে তিনি বলেন, ‘তাদের শরীরে এখন করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি, এর মানে নয় যে তারা আর আক্রান্ত হবেন না। ডাক্তার হিমাংশু জানিয়েছেন, এই রোগের উপসর্গ কিংবা পজেটিভ ফলাফল অনেক সময় সাথে সাথে দেখায় না। অনেকের ক্ষেত্রে ১২ দিন কিংবা ১৪ দিন পরে করোনা ধরা পড়ে। সুতরাং তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে আরো বেশি করে।’

সুত্রঃসিলেট ভয়েচ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা