একজন মানবিক পুলিশ অফিসার জেদান আল মুসা-

মোহাম্মদ হানিফ
  • Update Time : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০
  • ৮৮৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) স্ট্যাটাস দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া নায়েক মো. সফি আহমেদ।

এক মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে উল্লেখ করে উক্ত লেখাটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পাঠকের সুবিধার্থে লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

” সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) জেদান আল মুসা। “করোনা ভাইরাস” পরিস্থিতিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। অসহায় মানুষদের মধ্যে কখন দিনে কখন রাতের আঁধারে অতি গোপনে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন। কখনও খাবার বিতরণ, কখনও নগদ অর্থের মাধ্যমে, কখনও বা মানসিক ভাবে সহায়তা করে থাকেন। তিনি মিডিয়াতে থেকেও প্রচার বিমুখ। করোনার এই সময়েও অফিস এবং অফিসে বাইরে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন।

সত্যি এই প্রিয় মানুষ এর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। উনার সাথে থেকে মানবিকতা কি তা বুঝতে পারছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে জিজ্ঞেস করি ‌‌‌স্যার আপনি মিডিয়াতে কাজ করেন কিন্তু কখন আপনার ভালো কাজ গুলো প্রকাশ করেন না কেন? তখন স্যার বলেন সাহায্য সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা অবলম্বন করি। ত্রাণ বা সাহায্যের নামে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই সময় ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে করে একশ্রেণীর মানুষজন লজ্জাকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে। তাদের আত্মীয় স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীরা যখন এসব ত্রাণ গ্রহণের ছবি ও ভিডিও দেখছে তখন তারা লজ্জাকর পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারাও এক সময় স্বাবলম্বী হবে, কিন্তু এসব ছবি বা ভিডিও তাদের ভবিষ্যতের জন্য লজ্জার বিষয় হবে। আমরা সবাই বাঙালি। সুখে দুঃখে সবাই একসাথে থাকবো। আমাদের দেশের সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত সুদৃঢ়। সকলের সুখ-দুঃখ নিজেরা ভাগ করে নিই।

বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবেলায় কাজ করছে। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে এটাই স্যার সার্থকতা । সত্যি স্যার আপনার এই অনুভূতি অসাধারণ। আপনার এই নীতি সবসময় অনুসরণীয়। স্যালুট স্যার”

লেখক: মো.সফি আহমেদ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া নায়েক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা