হাবিব নগর চা বাগানে ডাকাতের হামলা-

হানিফ
  • Update Time : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৯৩৯ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ- আজ রাত ১ঃ২৫ মিনিটের সময় সিলেট, জৈন্তাপুর উপজেলা,চিকনাগুল ইউনিয়নের হাবিব নগর চা বাগান গ্রামে ডাকাতি লুটপাটের শিকার হওয়া থেকে রেহাইপেল।

কিছুদিন আগ থেকে ব্যবস্থাপক আফজাল চৌধুরী (ম্যানেজার) সতর্কসংকেত দেয়া হয়েছে যে হাবিব নগর চা বাগানের বিসাল বড় পুকুরের সব মাছ ডাকাতি লুটপাট করে নিয়ে যাবে। তাই ম্যানেজার সাহেব পাহারাদার ছিল আগে এক জন সংকেত পাওয়ার পর থেকে গত শনিবার ১১-০৪-২০২০ইং তারিখ থেকে পাহারাদার বাড়িয়ে ৮-১০জন দিয়েছেন।

আজ রাতে ১ঃ২৫মিনিটের সময় ডাকাত দল আশে পরে প্রহরিরা কয়েকজনকে (ফিসারি) সেই বিশাল পুকুরের পাড় দিয়ে হাঁটে ৪-৫জন ডাকাত দল বড় রাম দা, ছুলফি,জাটা, নিয়ে আসে পরে হাঁটে বাকিরা পুকুর পাড়ের তারের বেড়ার বাহিরে আনুমানিক আরো ২০-২২জন ডাকাত ছিল বলে জানায় প্রহরীরা।

সবাই দেখে যে ডাকাত প্রথমে দু’জন বেড়ের ভিতরে ঢুকে দেখে প্রহরীরা আছে কিনা, পরে আরো ৪-৫ ঢুকে পড়ে একজন প্রহরী বড় বড় রাম দা ছুলফি দেখেই ভয়ে চিৎকার দিল আর পাগলা ঘন্টা দিল পরে ডাকাত দল পাগলা ঘন্টা শুনে পালায়।

পাগলা ঘন্টার আওয়াজ শুনে সারা হাবিব নগর চা বাগানে গ্রামের লোক ছুটে যায় যেয়ে শুনে ডাকাত দল এসেছিলো। গ্রামের লোক যেতে যেতে ডাকাত পালিয়ে যায় কিন্তু এলাকার সব লোক খুঁজে তাদেরকে কে পাবে পাশেই চা বাগান বাগান দিয়ে চলে যায়।

কিন্তু হাবিব নগর চা বাগান গ্রামের লোক সস্তিতে নেই কারণ প্রহরীরা জানায় যে ডাকাত দলের লোকরা ছিল মালগাম,শ্যামপুর,বাগেরখাল এই তিন গ্রামের ডাকাতগুলো খুব ভয়াবহ লোক।

হাবিব নগর চা বাগানের পাঞ্চায়েত সুমন কালিন্দী ও সেক্রেটারি নানুমিয়া সবাইকে বলে যে আরো কোন ক্ষতি হতে দেবক নায় আমরা পঞ্চায়েত কমিটিরা সবাইকে শান্তনা দিয়ে রাত ৩ঃ০৭ মিনিটে বাড়ি যেতে বলে পড়ে সবাই যার যার বাড়ি চলে যায়।

বাগানের প্রহরীদের কোন শান্তিতে নেই কারন ডাকতের আতংকে আছে প্রহরীরা। ডাকাতদের জন্য আইনি ব্যবস্হা নিবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপক ম্যানেজার আফজাল হোসেন চৌধুরী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা