রেমা চা বাগানের সমস্যা সমাধানে আগামিকাল শ্বারক লিপি প্রদান ও মঙ্গলবার আলোচনা।

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২০
  • ৯২৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ বিদ্যমান রেমা চা বগানের সমস্যা সমাধানে গত ২২ মে রেমা চা বাগান ও লস্করপুর ভ্যালী ছাত্র- শ্রমিক- জনতার ব্যানারে বাগানের অচলাবস্থা নিরসনে ৯ দফা দাবিতে আগামী ৩১ মে ২০২০ রবিবার হবিগঞ্জ জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি ঘোষনার পরে রেমা চা বাগান কর্তৃপক্ষ চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর এর সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের সাথে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তাব করেন। তারই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে তারিখে চুনারুঘাট উপজেলা কনফারেন্স হলে রেমা চা বাগান, লস্করপুর ভ্যালী ছাত্র- যুব নেতৃবৃন্দ এবং চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সাথে এক পরামর্শ সভা করেন। শ্রমিক প্রতিনিধিরা ৯ দফা দাবীর যৌক্তিকতা দাবিগুলো তুলে ধরেন। উপজেলা চেয়ারম্যানও বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে উভয় পক্ষকে নিয়ে আগামী ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় চুনারুঘাট উপজেলা কনফারেন্স হলে রেমা চা বাগানের চলমান সমস্যা নিরসনে এক সভা আহব্বান করা হয়।

আগামী ২ জুন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য সভার আলোচনা ও দাবি আদায়ের কৌশল নির্ধারনের জন্য রেমা চা বাগানের চা শ্রমিকের  এক পরামর্শ সভা পঞ্চায়েত সভাপতি তনু মুন্ডার সভাপতিত্বে বাগানের ১ নং লাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

সকলের পরামর্শক্রমে সমঝোতা সভায় শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা নৃপেন পাল, রবীন্দ্র গৌড়, উজ্জ্বলা পাইনকা, অনিরোদ্ধ বাড়াইক, পঞ্চায়েত নেতা তনু মুন্ডা, মানিক দাস পাইনকা, ডিগেট বুনার্জী, বারেলাল গোয়ালা, বিমল সবর, সুমন উড়াং, অরুণ দাস পাইনকা, আপন মুন্ডা, সনজিত কৈরি লস্করপুর ভ্যালীর ছাত্র যুব প্রতিনিধি বীরেন কালিন্দী, মুকেশ কর্মকার এবং আইনজীবী প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবুল হাসানকে নির্ধারন করা হয়।

এরি ধারাবাহিকতায় আগামীকাল জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি বহাল রেখে প্রতিনিধিত্বমুলক ভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আগামী ২ জুনের সমঝোতা সভায় শ্রমিকদের দাবি অনাদায়ে রেমা চা বাগান কর্তৃপক্ষের লীজ বাতিলের লক্ষে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা