চা শ্রমিকের দুঃখের কথার কোন শেষ নেই

সন্জয় চৌহান জুড়ী ভ্যালী।
  • Update Time : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
  • ১০০৯ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃবাংলাদেশে প্রায় ছয়টি জেলাতে চা বাগান আছে, তার মধ্যে মোলভীবাজার জেলায়-৯০টি চা বাগান, হবিগঞ্জ-২৩টি, সিলেট-১৮টি, চ্রট্টগ্রাম-২১টি, রাঙ্গামাটি-১টি ও পঞ্চগড় জেলায়-৯টি চা বাগান রহেছে,। বাংলাদেশে যেভাবে দিন দিন চা বাগান গুলোতে চা উৎপন্ন হচ্ছে, তার বিনিময়ে গোটা চা শ্রমিকগন তাদের জীবন খুবই কষ্ঠে অতিবাহিত করছে, বিভিন্ন মতে জানা যায় যে, চা শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ভাবে চা উৎপন্ন থেকে শুরু করে চা বাগান কৃর্তক যে সমস্ত কাজ রয়েছে সেগুলো চা শ্রমিক দ্বারা কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে, তারপরও তাদের কাজের অনুপাতে চা শ্রমিকরা ন্যার্য মজুরী পাচ্ছে না। জানা যায় এখন বর্তমানে চা শ্রমিকের মজুরী-১০২ টাকা হারে, কিন্তু ১০২ টাকা মজুরিতে চা শ্রমিক কি তার পরিবার লালন পালন করা সম্ভব, একটা পরিবারে ছেলে/সন্তান নিয়ে প্রায় ৫/৬জন আবার কোন কোন পরিবারে তান অধিত মানুষ রহেছে। যেমন পরিবারে লেখা পড়া ভরন পোষনসহ ১০২ টাকা দিয়ে চা শ্রমিকরা তাদের জীবন যাপন করা সম্ভব নয়, এছাড়া আরও জানা যায় যে, চা বাগান গুলোতে যে মেডিকেল স্থাপন করা আছে, সেখানে গেলে কোন অসুস্থ রোগী যেমন- জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা ব্যাথা, ডাইরিয়া সহ বিভিন্ন সমস্যার রোগীকে প্যারাসিটামল, হিসটাসিন, মেট্রিল ছাড়া আর অন্য কোন ঔষধ পাওয়া যায় না। আরও রহেছে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল- যেমন যারা গরিব দুঃখি ছাত্র তারা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছে না, তাদের প্রযাপ্ত পরিমানে শিক্ষা ব্যবস্থা নেই, যারা মেধা তালিকায় এগিয়ে আসে তারাই কেবল বিভিন্নভাবে সহযোগীতা পেয়ে থাকেন। আরও জানা যায় চা শ্রমিকের থাকার মত তেমন ঘর নেই ঘর থাকলেও সেখানে বসবাসের উপযোগী নয়, যেমন ঘর ভেঙ্গে গেছে, ঘরের ছাউনী দিয়ে বৃষ্ঠির পানি ঘরে প্রবেশ করার কারনে তারা সঠিক ভাবে বসত বাড়িতে থাকতে কষ্ট হয়, নেই কোন বিদ্যুতের সু-ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসতে হয় সেই কেরসিন তেল দিয়ে জ্বালিত বাতি। কোন কোন চা বাগানে বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও দেখা যাই মাস কোন শ্রমিক সপ্তাহিক তলপ/পেমেন্ট পাওয়া যায় না, বলা হয় কারেন্ট বিল কেটে নেওয়া হয়েছে, অথচ ৩/৫ বৈদ্যতিক বাতি জ্বালিয়ে সপ্তাহিক সব পেমেন্ট কেটে নিয়ে যাই। এছাড়া ১৪/১৫ বছরের যে ছেলে/মেয়েরা আজ বিদ্যালয়ে থাকার কথা তারাও পেটের জ্বালা সহ্য করতে ন্ পেরে আজ বিভিন্ন পেশাতে কাজ করে যাচ্ছে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য। তাই চা শ্রমিকের সবার দাবী ৫০০টাকা দৈনিক সমমজুরী করার জোর দাবী ও বিভিন্ন মানব বন্ধন করে যাচ্ছে। না হলে যে চা বাগান গুলোতে চা উৎপন্ন হচ্ছে হয়ত তা আর হবে না কারন অনেক চা শ্রমিক না খেয়ে অদ্যহারে চা বাগানে কাজ করে যাচ্ছে। তাই চা শ্রমিকের দাবী চা শ্রমিক কে বাচাতে হলে দৈনিক সমমজুরী ৫০০টাকা হওয়া প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা