কমলগঞ্জের ধলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৫৭০ Time View

চা শ্রমিক ডটকম,সারেজমিন প্রতিবেদনঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউপির ধলই চা বাগানে সোমবার সারাদিন শ্রমিকরা চা পাতা উত্তোলন সহ সকল কাজ করলেও হঠাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালে রাতের আধারে অফিসের সামনে নোটিশ বোর্ডে একটি নোটিশ টাঙ্গীয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তথ্যসুত্রে যানাযায়ঃ গতকাল ২৭ শে জুলাই বাগানটি সকালের কর্ম পরিচালনা মাষ্টারিং বন্ধকরে রাখা হলেও শ্রমিকেরা যথারিতি পাতা উত্তোলন করলে বাগান কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির কারনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানুর মাধ্যমে তা চা কারখানায় প্রেরন করা হলে বাগানটির কর্তৃপক্ষের বরাতদিয়ে পরবর্তী দিন বিদুৎ না থাকার অজুহাতে ডবল সিফটের মাধ্যমে চা পাতাগুলি ভাঙ্গিয়ে নেয় বলে যানাযায়।
এবং রাত্রের কোন এক সময় বাগান বন্ধের লে-অফ নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়।

সকালে যথারিতি কাজে যোগদানের জন্য বের হলে বাগান বন্ধের বিষয়ে জাননে পেরে বাগানের অফিস প্রাঙ্গঁনে জড়ো হতে শুরু করে। পতোক্যদর্শী মতে যানাযায় সকাল শুরুর পর হতেই পুলিশ সদস্যরা অফিসের সামনে অবস্থান করছিল বলে যানাগেছে। সকাল হতেই চা শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণ ভাবে অফিসের সামনে বৃষ্টিতে ভিজেও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের অপেক্ষারত ছিলেন।

এবিষয়ে ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরী জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভ্যালীর ২৩ টি চা বাগানের বাগান পঞ্চায়েত কমিটিকে অবগত করে দুপুরের দিকে ভ্যালীর কার্যালয়ে এক পরামর্শ সভার মাধ্যমে বিষয়টি অবগতি করনের মাধ্যমে উপজেলা কর্মকর্তা বরাবর শ্বারকলিপি প্রদান করলে আগামীকাল ৩ ঘঠিকার দিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে বলে যানাযায়।

বিকাল ৩ ঘঠিকার সময় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও কমলগন্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী,৮ নং মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, ২৩ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি, সম্পাদক সহ ভ্যালীর নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়ে বাগানের দুর্গা মন্দির পাঙ্গনে নাচঘরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন বাগানের কার্যক্রম সম্পূন্ন সুষ্ঠুভাবে চালু অবস্থায় কাল্পনিক ভাবে উস্কানি প্রতিহিংসা মূলক অপপ্রয়োগের মাধ্যমে শ্রম আইনের ১৩ ধারা প্রয়োগ করেছে।
তিনি আরো বলেন কোন প্রকার দাঙ্গাজনিত উশ্রিংখল পরিবেশ সৃষ্টের যেখানে কোন কারন নেই সেখানে প্রহসন মূলক শ্রমিকদের জিম্মিকরে পূণঃরায় কতৃত্বে আসার হীন মানুষিক কাজের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রসাসন, শ্রম অধিদপ্তর সহ দপ্তর সমুহের দৃষ্টি কামনা করে সুবিচারের প্রত্যাশা করে শ্রমিকদের ধৈর্যচ্যুতি না হয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে থাকার অনুরোধ করে বলেন ভ্যালীর ২৩ টি বাগান তাদের পাশে রয়েছে পর্যায়ক্রমে আগামীকাল হতে সাপ্তহ ব্যাপী সামাজিক দুরত্ব মেনে ৩০ মিনিট করে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করবে। বিষয়টি সুষ্ঠু বিহিত না হলে বৃহত কর্মসুচির ঘোষনা দেওয়া হবে।

উলেখ্য কিছুদিন পূর্বে চা বাগানের ছায়াবৃক্ষের চারাগাছ কাটার অভিযোগ এনে এক চা শ্রমিকের সন্তানকে পিতার সামনেই নির্যাতক করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংবাদ ও মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসন,বাগানটির মালিকপক্ষ,বাগান পঞ্চায়েত কমিটি,বাঃচাঃশ্রঃইঃ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ৮ নং মাধবপুর ইউনিয়নে আলোচনা বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যাবস্থাপককে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থেকে সহ-ব্যাবস্থাপকের মাধ্যমে বাগানটি পরিচালনা করার কথা এবং ২ সপ্তাহের মধ্য ঘঠনাটির নিষ্পত্তি কথা থাকলেও বিচার প্রকৃয়ার চলমান অবস্থায় চা বাগানটি লে-অফ নোটিশ টাঙ্গিয়ে বাগানটি বন্ধকরে দেয় বাগান কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা