২য় বারের বৈঠকেও সুরাহা হয়নি দলই চা বাগানের লে-অফ

শোভন রায়
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৪০ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ আজ ৪ আগষ্ট ধলাই চা বাগান ও তিলকপুর চা বাগানে দলই চা বাগানের চলমান সংকট নিরসনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলা০৩ঘঠিকা হতে  কমলগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তন কক্ষে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময়  সভা অনুষ্টিত হয়েছে দলই চ বাগান বেশ কয়েকদিন  যাবত বন্ধ থাকায় আলোচনায় ২য় বারেরমত বসেন মালিক পক্ষ  এবং বাংলাদেশ  চা শ্রমিক ইউনিয়ন।

উপস্থিত ছিলেন বাঃচঃশ্রঃইঃ সম্পাদক রামভজন কৈরি, সীতারাম বীন,সজল কৈরী, সিলেট ভ্যালি সভাপতি  রাজু গোয়ালা,দলই ভ্যালি সভাপতি ধনা বাউরী,কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার, আসিফুল হক, নির্মল পাইনকা,মোহন রুবিদাস প্রমুখ।

আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য রাখেন নির্মল পাইনকা তিনি বলেন চা বাগানটি ঠিক মতো পরিচালনা করলে আমাদের সুনাম হবে চা শ্রমিক বেচেঁ থাকার অনুপেরনা পাবে।

সীতারাম বিন বলেন ১৩ দফা যে শ্রম আইন টি কে ব্যবহার করে বাগান বন্ধ করা হয়েছে তা কি আদো গ্রহনযৌগ্য,বাগান খোলা রেখেয় আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান করা যেত একটি সযোগ ছিল তা করেনি। বাগান খোলা হোক।

ইউনিয়ন  সভাপতি বলেন চা বাগান একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান চা শ্রমিক আমাদের মানুষ মালিক পক্ষ  নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাহলে বিষয় সমাধান হয়ে যেত তাই উনি বলেন বাগান খোলা হোক।

বাঃচাঃশ্রঃইঃ অর্থ সম্পাদক পরেষ কালিন্দী  বলেন আমরা আওয়ামী লীগ কে ভোট দেয় আমরা আওয়ামী লীগের সদস্য কিন্ত আওয়ামী লীগ থাকাকালীন এ রকম আসা করিনি।

দলই চা বাগানের জেনারেল ম্যানাজার বলেন আমরাও চাই বাগান খোলা হোক চা শ্রমিক ভালো থাকুক।

অপরদিকে চা শ্রমিকেরা দলই চা বাগানে প্রধান পরিচালক আমিনুল ইসলামকে বাগানে চায় না চা শ্রমিক আরো বলেন এই ম্যানেজার আমাদের অনেক নির্যাতন করেছে  গাছ চুরিতে দুই বার ধরা খেয়েছে। বাগানের  জায়গা জুমে বিক্রি করেছে আরো অনেক ধরনের নিপিড়ন করেছেন।

মালিক পক্ষের বরাতে পূনঃরায় ব্যাবস্থাপক আমিনুল ইসলামজে বহালের প্রস্তাবনায়২য় বারের মতন আলোচনায় কোন কোন সুরহা সমাধান না হওয়াতে আগামী  শনিবার পূনঃরায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা