কথিত সাংবাদিক জুবায়েরের বিরুদ্ধে মদ খেয়ে মাতলামী করার অভিযোগ করেন নালুয়া চা বাগান কতৃপক্ষ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৮৩ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ  চুনারুঘাটের কথিত সাংবাদিক জুবায়েরের বিরুদ্ধে মদ খেয়ে মাতলামীর অভিযোগ করেছেন ডানকান ব্রাদ্রার্স এর নালুয়া চা বাগান কতৃপক্ষ।

গতকাল (৫ আগষ্ট) বুধবার নালুয়া চা বাগানের ম্যানেজার ইফতেখার এনাম স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রটি আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু এর বরাবর প্রদান করেন।
এবং স্থানীয় গুইবিল সীমান্ত ফাঁড়ীর ইনচার্জ কে অনুলিপি প্রদান করেন। অভিযোগ পত্র গ্রহন করার কথা চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরী ও বিজিবির সুবেদার বুরহান উদ্দিন স্বীকার করেন।

কথিত সাংবাদিক উল্লেখ করে ম্যানেজার অভিযোগ করেন যে,নালুয়া চা বাগানের দুমদুমিয়া লেইকে কথিত সাংবাদিক মোঃ জুবায়ের আহমদ (গ্রাম ধলাজাই,গাজিপুর ইউনিয়ন) এর নেতৃত্বে কতিপয় বহিরাগত বিভিন্ন বয়সের লোকজন ছেলে-মেয়ে সহ উক্ত লেইকে সকাল ১০ টা হইতে বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং হই-হোল্লোড় করে আড্ডায় মেতে উঠেন।
বাগানের কর্তব্যরত চৌকিদারের নিষেদ সত্ত্বে ও জোড় জবরদস্তি করে সেখানে প্রবেশ করে।এ ছাড়াও উক্ত চৌকিদার তাদের কে অবৈধ পানীয় ও মাদক সেবন করতে দেখে বাগান কতৃপক্ষ কে অবহিত করে।স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাটি দেখে তাকে নিষেদ করেও কোন কাজ হয়নি।বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে বাগান শ্রমিকদের মাঝে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বাগানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিষেদ করেছেন কতৃপক্ষ ।

উল্লেখ্য কতিথ সাংবাদিক জুবায়ের নিজেকে কখনো কৃষকলীক নেতা,কখনো নৌকার কান্ডারী,কখনো কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র,(যদিও বিশ্ব বিদ্যালয়ের কেউ তাকে চিনেনা) কখনো জিটিভি,কেটিভি,সিএনএন, চৌকস সহ অসংখ্য পত্রিকার বড় বড় পদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ কে ধোকা দিয়ে ফায়দা লুঠছে।সে একটি পাহাড়ী অজপাড়াগায়ের ছেলে।২বছর পুর্বেও ছেড়া গেঞ্জি পড়ে ঘুরছে। এখন নিজে একটি প্রাইভেট কার (কাগজ বিহিন)ও ২ টি মোটরসাইকেল (নাম্বার বিহিন) চালাচ্ছেন কি ভাবে জন মনে প্রশ্ন জেগেছে?

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা আত্মসাৎ ও নিজের সৎ ভাই সেনা সদস্য কে মেজর পরিচয় দিয়ে লোকজনের সাথে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে যখন প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে ঠিক তখন কতিথ সাংবাদিক জুবায়েরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী জোড় দাবী জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা