১৫ কিলোঃপায়ে হেটেঁ উপজেলার ময়না চত্তরে চা শ্রমিকের প্রতিবাদ সমাবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৩৩ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ টানা ২৮ দিন ধরে বন্ধ থাকা কমলগঞ্জ উপজেলার দলই চা বাগান খুলে দেওয়া ও চেয়ারম্যানসহ চা শ্রমিকদের ওপর করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কমলগঞ্জ ময়না চত্তরে ও উপজেলা  প্রশাসন ফটকে অবস্থান নিয়ে দাবী জানায় চা শ্রমিকরা আজ  সোমবার(২৪আগষ্ট) সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দীর্ঘ ১৪ কি.মি. পথ বিক্ষোভ মিছিল করে সকাল ১১টা থেকে পায়ে হেটে ধলই চা বাগানের নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৫ শতাধিক চা শ্রমিকরা প্রতিবাদসহ এ দাবি জানিয়েছে।

চা বাগানের নারীনেত্রী গীতা রানী কানু. ছাত্র নেতা সজল কৈরী, রাম সিং, সুমন রাজভর ও প্রদীপ পালের নেতৃত্বে ৫ শতাধিক চা শ্রমিক ব্যানার ফেস্টুনসহকারে বিক্ষোভ মিছিল করে পায়ে হেটে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে আসে। এ খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে লাঠি সোটা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়।

নারী নেত্রী গীতা রানী কানুসহ ছাত্র নেতারা বলেন, গত ২৭ জুলাই দলই চা বাগান মালিকপক্ষ বে-আইনী ঘোষণায় ধলই চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এ নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে কয়েক দফা বৈঠক হলে চা বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই স্থানীয় সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো.আব্দুস শহীদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে দলই চা বাগানে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে ১৯ জুলাই বুধবার ধলই চা বাগান খুলে দেওয়া হবে। পরবর্তী বৈঠকে চা বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম ও বন্ধ থাকালীন চা শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ঐ রাতেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম চা বাগানে প্রবেশ করেছিলেন। এ নিয়ে চা শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বুধবার (১৯ আগস্ট) ধলই চা বাগান কোম্পানীর সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান ধলই চা বাগানে প্রবেশকালে শ্রমিকদের সাথে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুইজন নারী চা শ্রমিক লাঞ্চিত হলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়ে সহকারি-মহাব্যবস্থাপকের জিপের কাচ ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুদ্বরা। এ নিয়ে ধলই চা বাগান কোম্পানীর সহকারি মহা ব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান বাদি হয়ে ২২ আগস্ট মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানুসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হয়রানী মূলক মিথ্যে মামলা দায়ের করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা