শেখ আউয়াল রহঃএর সপ্তম বংশধর শেখ মুজিবুর রহমান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মাওলানা শেখ মুহাম্মদ খাইরুল আমিন
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৮০৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পূর্ব পুরুষদের ধর্ম পরিচয় নিয়ে অনেকে অনেক মিথ্যা অপপ্রচার চালায়।তাদের সহ সকলের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পূর্ব পুরুষদের টুঙ্গিপাড়ায় বসবাস এবং এই বঙ্গদেশে আসার সঠিক কাহিনী নিচে তুলে ধরা হলঃ
বঙ্গে যে কজন সূফি-সাধক ইসলাম প্রচার করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) অন্যতম।
১৪৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি উপ-মহাদেশে আগমন করেন এবং চট্টগ্রামে স্থায়ী হন। চট্টগ্রামে তার আস্তানা ও সমাধি বর্তমান। বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) যখন এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন,তখন তাঁর সঙ্গি-শিষ্য ছিলো অনেক। এদের মধ্যে একজন ছিলেন শেখ আউয়াল। তিনি সকলের কাছে দরবেশ শেখ আউয়াল নামে পরিচিতি লাভ করেন। সূফি-সাধক হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) ও শেখ আউয়াল (রহঃ) ছিলেন ইরাকের বাসিন্দা।

দরবেশ শেখ আউয়াল (রহঃ) ছিলেন বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) এর প্রিয় সহচর এবং বিশ্বাসীজন। একদিন বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) শেখ আউয়াল (রহঃ) কে ডেকে তখনকার বঙ্গের প্রধান এলাকা সোনারগাঁও-এ যাবার নির্দেশ দিলেন। সোনারগাঁও মেঘনা বিধৌত,সুজলা এবং সুফলা। এ অঞ্চলে কখনও ইসলামের প্রচার ব্যাপকভাবে হয়নি। তাকে ইসলামের শান্তির বাণী শোনাতে হবে ঐ এলাকায়। দরবেশ শেখ আউয়াল দু-একজন সঙ্গি নিয়ে এলেন সোনারগাঁও-এ। সোনারগাঁও-এর চারদিকে প্রায় নদী আর খালবিলে ভরা। নদীর পাড়েই এলাকা প্রধানের ঘাঁটি। এখানে বড় বড় নৌকা ও পালতোলা জাহাজ ভরা। সোনারগাঁও-এর প্রকৃতি ভীষন ভালো লাগল দরবেশ শেখ আউয়ালের, এখানেই তিনি আস্তানা গাড়লেন সঙ্গি-সাথিদের নিয়ে।সোনারগাঁও-এ দরবেশ এসেছেন শুনে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ ছুটে এলেন তাঁর কাছে। দরবেশ শোনালেন ধর্মের কথা, মানবতার কথা, মানুষের কল্যাণের কথা। চতুর্দিকে শেখ আউয়ালের সুনাম ছড়িয়ে পড়লো। এক সময় তিনি বিয়ে করলেন এক বাঙ্গালি কন্যাকে। ইতিমধ্যে সত্যপথে চলার উপদেশ শুনে অনেকেই তার অনুসারি হলেন। একদিন তার ঘর উজালা করে এক পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো।বাবা শেখ আউয়াল আদর করে ছেলেটির নাম রাখলেন শেখ জহির উদ্দীন।

দেখতে দেখতে শেখ জহির উদ্দিন বড় হয়ে উঠলেন। বাবার কাছেই ধর্মীয় পড়াশোনা। প্রতিদিন আস্তানায় হাজার হাজর লোক আসে। তারা শেখ আউয়ালকে ভীষন শ্রদ্ধা করেন। এসব দেখে শেখ জহিরের খুব ভালো লাগে। অনেকের কাছে শেখ জহিরও আদরণীয়। শেখ আউয়ালের ধর্মীয় আদর্শ প্রচারের খ্যাতি সোনারগাঁও ছাড়িয়ে বিক্রমপুর পরগনা, ঢাকা এবং সুদূর মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ভালুকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ সংবাদ শুনে তাঁর উস্তাদ হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) খুশি; কিন্তুু বলা নেই, কওয়া নেই, একদিন সকলকে না জানিয়ে দরবেশ শেখ আউয়াল পাড়ি জমালেন আপনদেশ ইরাকে। যাত্রার প্রাক্কালে শুধু স্ত্রীকে বললেন-আমি হজ্বব্রত পালনে যাচ্ছি। যুবক জহিরকে ডেকে বললেন-মানুষের কল্যাণে থেকো,পরম সৃষ্টিকর্তাকে সব-সময় স্বরণ করো এবং তার আদেশ-নিষেধ মানুষের কাছে প্রচার করো।

এরপর অনেক বছর কেটে গেছে। দরবেশ শেখ আউয়াল আর ফিরে আসেননি বাংলায় তথা সোনারগাঁও-এ। এর পরের ঘটনা প্রায় ২/৩শ’ বছরের! শেখ জহির বাবার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। পরবর্তীকালে শেখ জহিরের ছেলে তেকড়ী শেখও সোনারগাঁওয়ে দাদার নামডাক ঠিকিয়ে রাখেন; কিন্তু দিনবদল ও বাস্তবতার কারণে তেকড়ী শেখ ব্যবসার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান খুলনা। দাদার স্মৃতিধন্য দরবেশের আস্তানাটির দায়িত্ব দিয়ে যান বিশ্বস্তজনের কাছে। খুলনায় তেকড়ী শেখের পুত্র শেখ বোরহান উদ্দিনের জন্ম হয়। বড় হয়ে বোরহানউদ্দিন তার বন্ধুর কাছে শোনেন মধুমতী নদী ও ঘাগোর নদীর মধ্যে জেগে উঠা টুঙ্গিপাড়া নামক একটি অজপাড়াগাঁয়ের কথা। তিনি রুপসা নদী পাড়ি দিয়ে আসেন এ গ্রামে। এ গ্রামের অদূরে পাটগাতী বন্দর। এই বন্দরে মিশেছে ঘাগোর নদী আর পশ্চিমে মধুমতীর ধারা। প্রতিদিন সকালে নদীতে স্নান সেরে জেগে ওঠে টুঙ্গিপাড়া। আর টুঙ্গিপাড়ার প্রকৃতি, সেতো সবুজ – শ্যামলে ছাওয়া। গ্রামের মাঝে ছোট্ট খাল বয়ে চলছে ডিমাডাঙ্গা পর্যন্ত। বছরের ৯ মাসই জলডোবা।গাছগাছালিতে হাজারো পাখি, গ্রামের বাসিন্দারা সাধারণ মানুষ সবাই কৃষিকাজ করেন।খুলনায় কাছের শহর,যাতায়াতের প্রধান বাহন নৌকা এই গ্রামকেই একদিন ভালবেসে ফেললেন দরবেশ শেখ আউয়ালের উত্তরাধিকারী শেখ বোরহান উদ্দীন (রহঃ)। তিনি টুঙ্গিপাড়ায় ঘর বাধঁলেন, বিয়ে করলেন। তার ৩ পুত্র সন্তান জন্ম হলো। এরা হলো শেখ আকরাম, শেখ তাজ ও শেখ কুদরত উল্লাহ্‌। শেখ আকরামেরও ৩ ছেলে, এদের মধ্যে একজন শেখ আব্দুল হামিদ। শেখ আব্দিল হামিদের এক ছেলের নাম শেখ লুৎফর রহমান, আর এই লুৎফুর রহমানের ৪ কন্যা সন্তান ও ২ পুত্র সন্তানের মধ্যে ১ পুত্র সন্তানের নাম শেখ মুজিব,তিনি শেখ আউয়ালের সপ্তম বংশধর! যিনি বাঙ্গালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই হলো বঙ্গবন্ধুর পূর্ব পুরুষদের টুঙ্গিপাড়ায় বসবাস ও বঙ্গে আসার কাহিনী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা