সঠিক নিয়ম জানা থাকলে প্রবাসী কর্মীরা প্রতারিত হবেন না- প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী,

মোহাম্মদ হানিফ
  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৬০ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সঠিক তথ্য জানা থাকলে অভিবাসন খাতে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে যাবে। সঠিক নিয়ম-কানুন জানা থাকলে কর্মীরা প্রতারিত হবেন না।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজিত ‘প্রতি উপজেলা থেকে বছরে গড়ে এক হাজার দক্ষ যুব ও যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিদেশ গমনেচ্ছুদের তথ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যারা বিদেশে যেতে চান তারা যেন অবশ্যই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সঠিক নিয়ম কানুন ও যাবতীয় তথ্য জেনে তারপর যান।’ আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে বিদেশ গমনেচ্ছুদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ বলেন, ‘সরকার প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। জনগণকে সঠিকভাবে সচেতন করা না গেলে সুষ্ঠু অভিবাসনের লক্ষ্য ব্যাহত হবে। দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে অচিরেই খুলনা বিভাগে নয়টি সহ মোট ৭১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের বছরের স্মারক হিসেবে এই সংখ্যাটি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন– খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, ‍প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ ‍মুনিরুছ সালেহীন এবং বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম প্রমুখ। সেমিনারে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে গড়ে এক হাজার জন দক্ষ কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হলে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে দক্ষ কর্মী তৈরি করা যাবে।’

মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি হলো প্রবাসী কর্মীর রেমিট্যান্স।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হলো, অভিবাসন খাতে যথাযথ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা।’

জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে দেশের জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা