গুলনী চা বাগানে হংকং এ নারী শ্রমিক প্রেরণ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা সম্পন্ন

জতিন সিং, সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৬৮ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃসিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার বড়নরগর গুলনী চা বাগানে হংকং এ নারী শ্রমিক প্রেরণ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করা হয়। মাত্র ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হংকং এ নারী শ্রমিক প্রেরণ করবে সরকার যেখানে একজন শ্রমিকের বেতন ৫১ হাজার টাকা।

মাস্টার আমিনুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্টানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নাজমুস সাকিব তিনি বলেন, আমি আপনাদের পাশে আশার কারন হল অনেকে মনে করেন নারী শ্রমীক বিদেশে গেলে ভিবিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে কিন্তু সরকার হংকং এর ব্যাপারে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা ভিন্ন এখানে নারীদের যাতে কোন প্রকার হয়রানী না হতে হয় সে দিক লক্ষ রেখে সরকারের পক্ষ থেকে হংকং এ নারী শ্রমীক পাটানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সংসদ সদস্য এবং মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন আমার এলাকার পিছিয়ে পড়া পরিবার যাতে বিদেশে গিয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

সমাপনি বক্তব্যে উক্ত অনুষ্টানের সভাপতি ৬ নং ফতেপুর ইউপ’র সুনামধন্য চেয়ারম্যান মাস্টার আমিনুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত নারী শ্রমীকদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বলেন, সরকার এত সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছে যদি আমার স্ত্রী চাকরীজীবি না হতেন তাহলে এই সুযোগে আমার স্ত্রীকে আমি হংকং এ পাটিয়ে দিতাম।

অনুষ্টানে বিশেষ অথিতি হিসেবে ছিলেন ৬ নং ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সংগ্রমী সভাপতি জনাব মাস্টার নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার ইসমাঈল আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ডা: ফরিদ আহমদ শামীম. উপজেলা যুবলীগ নেতা জনাব শাহাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাস্টার নুরুল ইসলাম, বড়নগর গুলনী চা বাগানের ব্যাবস্থাপক সাব-উল্লাহ সরকার, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মাসুক আহমদ বাগান সভাপতি মৃত্যুন্জয় কুর্মি,গুলনি চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল গোয়ালা, ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার গৌছ উদ্দিন, সাবেক মেম্বার ধরম কুর্মি প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা