গুরুত্বর আহত চা শ্রমিকনেতা নৃপেন পাল ও রবীন্দ্র গৌড়

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৮১ Time View

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রাইভেটকার-পিকআপের সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার চাঁনভাঙ্গা তেমুনিয়া নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়- শায়েস্তাগঞ্জ মুখী একটি প্রাইভেটকার চাঁনভাঙ্গা তেমুনিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীতমুখী পিক-আপের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় স্লিপ কেটে অপর একটি সিএনজিকেও ধাক্কা দেয় পিক-আপটি।

এ দূর্ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা দুইজন আহত হন। আহতরা হলেন- চাঁনপুর চা-বাগানের কালা চানের ছেলে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু নৃপেন পাল, বাবু কুমার গৌড়ের ছেলে লস্করপুর ভ্যালীর সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়।

লস্করপুর ভ্যালীর সভাপতি রবীন্দ্র গৌড় বলেন,“কেন্দ্রীয় চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মজুরি সংক্রান্ত সভায় অংশ গ্রহণ করার জন্য সকালে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পথে দূর্গাপুরের নিকট বিপরীত থেকে আসা একটি ডায়না ট্রাকের সাথে আমাদের প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হয় । এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং আমি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ন সেক্রেটারী নৃপেন পালসহ সকলেই আহত হই। আমার মাথায় সেলাই লেগেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালে অবস্থান না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাসায় চলে এসেছি,,
এসময় আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন স্থানীয় জনতা।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চম্পক দাম বলেন- “খবর পেয়ে তৎক্ষনাত চুনারুঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। দূর্ঘটনায় কবলিত যানবাহনগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা