সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব’-এর ২৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৪৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকম :বাংলাদেশের অন্যতম বেতার শ্রোতা সংগঠন সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ এর ২৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
২ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার সকাল ১১টায় সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ক্লাবের ২৩তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ এর লাক্কাতুরা চা বাগান শাখা।
সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাবের লাক্কাতুরা চা বাগান শাখার সভাপতি বিক্রম রায়ের পরিচালনায় এবং কেন্দ্রীয় ক্লাবের চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কেটে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) এর ২৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক ড. মির শাহ আলম।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব- লাক্কাতুরা চা বাগান শাখার সহ-সভাপতি সিপন দাস, সাধারণ সম্পাদক সুশিল দাস, সদস্য সমিত গঞ্জু, সজিব রায়, শ্যামল দাস, সুব্রত রায়, অজিত দাস, সৌরভ রায়, রঞ্জু গঞ্জু, ফটোগ্রাফার জীবন দাস, খোকন দাস, আব্দুল কুদ্দুস, সিলেট বেতারের কর্মী মো: রহমত উল্লাহ ও কামরুল হাসান, সুব্র দাস, অংকন গঞ্জু, হেমন্ত চাষা, সাওন গোয়ালা, রতন লোহার, প্রমিত সবর, জয় লোহার প্রমূখ। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দিদারুল ইকবাল।
উদযাপনি অনুষ্ঠানে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্লাবের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক অর্জন, ক্লাবের পরবর্তি কর্মসূচি এবং বিভিন্নি আন্তর্জাতিক বেতার কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ বেতার, ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া, ভয়েস অব ভিয়েতনাম, চীন আন্তর্জাতিক বেতার, ফিলিপাইনের রেডিও ভেরিতাস এশিয়া, এনএইচকে ওয়ার্ল্ড রেডিও জাপান, ডয়চে ভেলে জার্মান, কেবিএস ওয়ার্ল্ড রেডিও কোরিয়া, বিবিসি লন্ডন, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও প্রাগ চেক রিপাবলিক, রেডিও রোমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল, রেডিও তেহরান ইরান, রেডিও মস্কো রাশিয়া, এ্যাডভেন্টিস্ট ওয়ার্ল্ড রেডিও, রেডিও সৌদিআরব, রেডিও তাইওয়ান ইন্টারন্যাশনাল, কেটিডব্লিউআর, রেডিও স্লোভাকিয়া ইন্টারন্যাশনাল, অল ইন্ডিয়া রেডিও, রেডিও অস্ট্রেলিয়া, রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল, রেডিও ফ্রি এশিয়া, রেডিও নেপাল, রেডিও নেদারল্যান্ড, ভয়েস অব তুর্কি, ভয়েস অব মঙ্গোলিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশের রেডিও কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
এছাড়া ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও রিপাবলিক ইন্দোনেশিয়া (আরআরআই) এর আন্তর্জাতিক সম্প্রচার বিভাগ ভয়েস অব ইন্দোনেশিয়া (ভিওআই) এর পরিচালক আগুং সুস্যেতো, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ভয়েস অব ভিয়েতনাম (ভিওভি) ইংরেজী বিভাগ থেকে পাঠানো অডিও শুভেচ্ছা বার্তা অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। বিভিন্ন বেতার থেকে আরো যারা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। 

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১লা অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)। বর্তমানে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাবের প্রায় ৫০টি শাখা রয়েছে এবং এর সদস্য সংখ্যা হাজারের বেশি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) অত্যন্ত সক্রিয় একটি শ্রোতাক্লাব। ক্লাবটি বেতারের শ্রোতা বৃদ্ধি এবং বেতার অনুষ্ঠানের মানউন্নয়নে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা ছাড়াও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। এছাড়া বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা সহ বাংলাদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইতিমধ্যে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং ভারত থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক পদক লাভ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা