সমাজ কল্যাণ যুব ফোরামের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৫৭ Time View

গতকাল ২৭ই নভেম্বর ২০ ইং রোজ শুক্রবার বেলা ২ ঘটিকার সময় হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকার লামাতাশী গ্রামে সমাজ কল্যাণ যুব ফোরামের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ ১ আসন (নবীগঞ্জ-বাহুবল) এর মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ এমপি। সভাপতিত্ব করেন পাঁচগ্রাম নেতা ও সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব জনাব ফয়সাল আহমেদ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান বিপ্লব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এহসানুল মাহবুব নিয়াজ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সমাজ কল্যাণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।
পরিচিতি বক্তব্য প্রদান করেন সমাজ কল্যাণ যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল উদ্দিন মাহদী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: জনাব আসকার আলী সহ-সভাপতি আওয়ামীলীগ বাহুবল উপজেলা শাখা, জনাব ফুল মিয়া সভাপতি আওয়ামীলীগ ৫ নং ইউনিয়ন, জনাব সফিক মেম্বার সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীলীগ ৫ নং ইউনিয়ন,
জনাব সাইফুদ্দিন লিয়াকত চেয়ারম্যান ৬ নং মিরপুর ইউনিয়ন, জনাব জিতু মিয়া সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ ৬ নং মিরপুর ইউপি। জনাব আমির আলী মেম্বার সভাপতি আওমীলীগ লামাতাশী ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড।

জনাব সৈয়দ আব্দুল গফফার মিলাদ আহবায়ক যুবলীগ বাহুবল উপজেলা,
জনাব এম এ রশিদ যুগ্ম আহবায়ক যুবলীগ বাহুবল উপজেলা, জনাব হুমায়ুন রশীদ জাবেদ সভাপতি দেওয়ান ফরিদ গাজী স্মৃতি পরিষদ।
জনাব আনোয়ার হোসেন আলী সেক্রেটারি দেওয়ান ফরিদ গাজী স্মৃতি পরিষদ, জনাব রাসেল আহমদ আহবায়ক তাঁতীলীগ বাহুবল উপজেলা।

আরো অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নজরুল ইসলাম হেলাল সাধারণ সম্পাদক বাহুবল উপজেলা ছাত্রলীগ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন
জনাব সুজন আখঞ্জী বাহুবল উপজেলা ছাত্রলীগ, জনাব মনসুর আখঞ্জী বাহুবল উপজেলা ছাত্রলীগ,
জনাব তারেক আহমদ সভাপতি ৬ নং ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, সংগঠনের উপদেষ্টা আব্দুল হাই, রথীন্দ্র দেব, রেদওয়ান আহমদ, মামুন আহমদ।

সমাজ কল্যাণ যুব ফোরাম সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম রুমন, সহ সভাপতি সুমন আহমেদ, সহ-সভাপতি ইমন আহমেদ, সহ-সভাপতি লিমন শীল, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সহ-অর্থ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক শাহিন মিয়া, সহ প্রচার সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দিপ্র দেব, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইকবাল মিয়া বাচ্চু , ধর্ম সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ ধর্ম সম্পাদক নয়ন দেব, দপ্তর সম্পাদক রাসেল মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক ঝুমন মিয়া সদস্য রুহুল আমিন, আহমদ আলী ইমন, মিনাল আহমদ, সায়েম আহমদ প্রমূখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-