আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সিলেটের নতুন তিন রুটে চলবে বিআরটিসি বাস

নিউজ ডেস্কঃ
  • Update Time : বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৯২ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ বিআরটিসি বাস চালুর বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও বিভাগীয় কমিশনারের বৈঠক পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও প্রশাসনের ফাইনাল সিদ্ধান্ত আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সিলেটের নতুন তিন রুটে চলবে বিআরটিসি বাস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি। তিনি জানান- দীর্ঘ আলোচনায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সেই একই দাবি ছিল এই রুটে বিআরটিসি চলতে দেয়া হবে না। তবে কেন চলতে দেয়া হবে না এবং বাধাদানের বিষয়ে পূর্বের মত কোন সদুত্তর দিতে পারে নি। পরবর্তীতে প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনার বিআরটিসি বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে অটল থাকলে শ্রমিক নেতারা উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে আরও তিন দিনের সময় চান। এছাড়া বৈঠকে এই তিনদিন বিআরটিসি বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সিলেট-হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল রুটে বিআরটিসি বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগীয় কমিশনার ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।

আলোচনার জন্য মালিক-শ্রমিক নেতাদের তিন দিনের সময় চাওয়ার ব্যপারে বিভাগীয় কমিশনার বলেন- বিআরটিসি বাস ১ জানুয়ারি থেকেই চলবে, এটা ফাইনাল। তবে আলোচনা হতেই পারে। এটা আলাদা বিষয়। যদিও পরবর্তী বৈঠকের দিন-তারিখ ঠিক হয়নি।

এর আগে রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গলগামী বিআরটিসির একটি বাস নানা বাধা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছলেও সকাল সাড়ে নয়টায় হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে আরও একটি বাস ছাড়তে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। এমনকি বাসটি ছাড়ার পর সাধারণ পরিবহন শ্রমিক নেতারা এতে বাধা দেন। এসময় বিআরটিসির কাউন্টারে হামলা চালিয়ে ডিপো ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলীকেও লাঞ্ছিত করে তারা। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগে সে সময় পরিবহন শ্রমিকরা তাদের একটি ল্যাপটপ ও নগদ সাড়ে ১২ হাজার টাকাও নিয়ে যায়।

ওই ঘটনার পর থেকেই চলে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কয়েক দফায় বৈঠক। বেলা ১২টায় প্রথম বৈঠকে পুলিশ প্রশাসন থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদেরকে এই বাধাদানের কারণ জানতে চাইলে তারা এর সদুত্তর দিতে পারে নি। পরে তারা বিআরটিসি বাস চলাচলের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শর্ত প্রশাসনের কাছে তুলে দিতে কিছু সময় নেন তারা। পরবর্তীতে ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে ফের বৈঠকে বসলেও সমাধান হয় নি। এর মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানে বিআরটিসির একটি বাস হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে কাউন্টার ছেড়ে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা