উৎসবমুখর পরিবেশে রেমা চা বাগানে নারী দিবস উদযাপন 

লিটন মুন্ডা , লস্করপুর ভ্যালী প্রতিনিধিঃ 
  • Update Time : সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
  • ৪৬৯ Time View

সারা বিশ্বের ন্যায় আজ ৮ ই মার্চ ২০২১ ইং সোমবার সকাল ১১ টায় হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলার রেমা চা বাগানে উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়।  এতে লস্করপুর ভ্যালীর  ২৩ টি চা বাগানের প্রায় ৮ শতাধিক চা শ্রমিক,  যুবক-যুবতীরা  অংশ গ্রহণ করেন।   আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে  আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠন এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন লস্করপুর ভ্যালীর সকল চা বাগানের চা শ্রমিকবৃন্দ।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের সদস্য সচিব – সন্ধ্যা রানী ভৌমিক  শুভেচ্ছা বক্তব্য  দিয়ে অনুষ্টানের শুভ সূচনা করেন।  নারীদের ১৩ দফা দাবী  বর্ননাকারে পেশ করেন বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের আহবায়ক – খাইরুন আক্তার। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্বে করেন রেমা চা বাগানের চা শ্রমিক নারী নেত্রী – বিজলা গোয়ালা এবং পরিচালনা করেন বাংলাদেশ  চা কন্যা নারী সংগঠনের উপদেষ্টা – মাহমুদা খাঁ।

 

আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানে মধ্যমণি ছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান – ফৌরদৌস আরা বেগম তিনি বলেন – ” নারীরা আজ বিশ্বের কাছে সব দিগ দিয়ে এগিয়ে থাকলেও অধিবাসী চা শ্রমিক নারীরা এখনও পেছুনেই রয়ে পড়ে আছে এর মুল কারণ  পুরুষরা নারীদের মর্যাদা দিতে শিখে নাই ,,  প্রধান অালোচক হিসেবে ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক – জলি তালুকদার।

 

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের সফলমন্ডিত করেছেন  কবি ও সাহিত্যিক – তাহমিনা বেগম গিনি,  জাগরন   যুব ফোরামের সভাপতি – মোহন রবিদাস,  নাট্যকার ও কথা সাহিত্যিক – রুমা মোদক,  এক্টিভিট ও নারী অধিকার কর্মী – মাহফুজা হক, বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠন ও নারী অধিকার কর্মীর উপদেষ্টা – মাহমুদা খাঁ,   চুনারুঘাট ব্যতিক্রম চা ছাত্র যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠতা সভাপতি – রনি যাদব, বিরেন কালিন্দী,  লালন পাহান,  প্রনব,  সিলেট ভ্যালির প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ হানিফ প্রমূখ।

 

অনুষ্ঠান শেষে সকলকে  দুপুরের  খাবার দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  ও মঞ্চ নাটক মঞ্চায়িত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা