আমু চা বাগানের চিমটিবিল সীমান্তে বিজিবি’র গণশুনানী

লিটন মুন্ডা, লস্করপুর ভ্যালি   প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৮১ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে গণশুনানী করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।

 

(৩২ মার্চ) বুধবার বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমু চা বাগান চিমটিবিল খাশপাড়া সীমান্তে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিজিবি’র হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি) নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ৫৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেঃ কর্ণেল সামীউন্নবী চৌধুরী।

 

গণশুনানীতে বক্তব্য রাখেন আমু চা বাগানের ব্যবস্থাপক – মোঃ জহিরুল ইসলাম,আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার – জালাল উদ্দিন, সাতছড়ি বন বিভাগের – রেঞ্জার মাহমুদ হোসাইন ,চুনারুঘাট উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি – আব্দুর রাজ্জাক রাজু,স্থানীয় ইউপি সদস্য-  চন্দ্র তাতী,শিক্ষক প্রতিনিধি, খাসপাড়া জামে মসজিদের ইমাম – মোঃ সুরুজ আলী,সাংবাদিক আব্দুল জাহির মিয়া,চিমটিবিল ক্যাম্পের সুবেদার মকবুল হোসেন, আমু চা বাগানের স্টাফ সদস্যরা ,পালান মিয়া,হলেন উড়াং প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন,আমরা প্রত্যেক ব্যাক্তি,পরিবার ও স্বস্বস্থান বা কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধাচার হলে দেশ একদিন শুদ্ধরূপে গড়ে উঠবে। উন্নত রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরী হতে বেশীদিন লাগবে না। সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখেন এবং মাদক বন্ধ করতে বিজিবি ও প্রশাসন করে সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা