লস্করপুর চাবাগানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ছেলেসহ আহত- ৩

লিটন মুন্ডা, লস্করপুর ভ্যালি   প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫০২ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর ভ্যালির  লস্করপুর চাবাগানে  পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ছেলেসহ ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ  ( ২৩ এপ্রিল)  শুক্রবার সকালে আহতদেরকে চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত (২২ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার গভীর রাতে  উপজেলার পাইক পাড়া  ইউনিয়নের লস্কর পুর চা বাগানের  গাইবাথান এলাকায়  পুরন মুন্ডার বাড়িতে। আহতরা হলেন –   মৃত পুরন মুন্ডার স্ত্রী সুমিত্রা মুন্ডা(৫৫),  তার ছেলে বিপীন মুন্ডা(৩৫), সচিন মুন্ডা (৩০) তাদেরকে  উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

আহত সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একই এলাকার প্রতিবেশী গোপাল মুন্ডার সাথে পারিবারিক পুর্ব শত্রুতা রয়েছে। এর জের ধরে গতকাল গভীর রাতে গোপাল মুন্ডার নেতৃত্বে বিজুন, হ্নদয় সহ ১০/১২ জনের একদল লোক সুমিত্রা মুন্ডার বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় সুমিত্রা তাদেরকে বাধা দিলে তাকে পিঠিয়ে জখম করে তখন সময়  তার শোরচিৎকারে মাকে বাঁচাতে ছেলে বিপীন মুন্ডা ও সচিন মুন্ডা এগিয়ে আসলে তাদেরকে পিঠিয়ে

দুই হাতের  কবজি ও কনুই ভেঁঙ্গে দেয় এবং রক্তাক্ত জখম করে ।

সচিন জানায়, “গোপাল তার দলবল নিয়ে তার বাড়িতে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও অর্থকড়ি লোটপাট করে নিয়ে যায়,,।

 

এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার পাইক পাড়া ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে  তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা