মাধবপুর চা বাগানে প্রেমিকার বাড়ীতে প্রেমিকের আত্নহত্যার চেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১১৪৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকম,ডেস্ক নিউজ,আপডেটঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীরমেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অনৈতিকভাবে মেলামেশা করায় চা শ্রমিকরা প্রেমিককে আটক করে নিজ বাড়িতে পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে আবারও গভীর রাতে প্রেমিকার বাড়িতে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করে প্রেমিক। এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে ভোরে পুলিশ প্রেমিক ও প্রেমিকাকে আটক করে থানা নিয়ে যায়। এ ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় মাধবপুর চা বাগানের পশ্চিম লাইন শ্রমিক বস্তিতে। প্রেমিক স্বপন কুমার নুনিয়া (৪০) মাধবপুর চা বাগানের বাজার লাইনের নারায়ণ নুনিয়ার ছেলে।

মাধবপুর চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এ চা বাগানের ইউপি সদস্যা সুমিত্রা বালা নুনিয়ার ছেলে স্বপন কুমার নুনিয়া বিবাহত হলেও পশ্চিম লাইন শ্রমিক বস্তির রামু করি বোন স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে (শান্তি করি) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিকভাবে মেলামেশা করছিল। বুধবার রাতে এভাবে অনৈতিক মেলামেশার কারণে (শান্তি করি) স্বজন ও চা শ্রমিকরা তাদেরকে আটক করে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর রাতে প্রেমিকা (শান্তি করি) প্রেমিক স্বপন নুনিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রহন করে নেওয়ার জোর দাবি জানালে স্বপনের মা ইউপি সদস্যা সুমিত্রা বালা নুনিয়া ধমকিয়ে তাকে ফেরৎ পাঠান। এর পর আবার প্রেমিক স্বপন নুনিয়া প্রেমিকার (শান্তি করি) বাড়িতে গিয়ে তার কক্ষেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্ম হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনাটি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন সুর চিৎকারে স্থানীয় চা শ্রমিকরা এগিয়ে এসে দঁড়ি কেটে স্বপন নুনিয়াকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে কমলগঞ্জ থানায় খবর দিলে ভোর ৫টায় উপ-পরিদর্শক ফরিদ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে প্রেমিক ও প্রেমকিা দুইজনকেই থানায় নিয়ে আটকিয়ে রাখে। মাধবপুর চা বাগানের শ্রমিকরা আরও জানান, স্বপন কুমার নুনিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ইতিপূর্বে আরও ৫টি পরিবারের ক্ষতি করেছে। সে ইউপি সদস্যার ছেলে বলে ভয়ে কেই তার প্রতিবাদ করে না।

মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চা বাগানে সামাজিক প্রথা খুবই শক্ত। এ ঘটনাটি দুই সম্প্রদায়ের সমাজপতি ও প্রতিনিধিরা সামাজিক বৈঠক করে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদ মিয়াও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় মুচলেখার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কোন পক্ষই কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না। তারা চা বাগানে সামাজিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন। তাই এ ঘটনায় আইনী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে যানাগেলেও বিস্তারিত জানাযায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা