২য় জাতীয় চা দিবস উদযাপন তাৎপর্য ও চেক বিতরণ

স্মরণ সিং (বালিশিরা ভ্যালী)
  • Update Time : রবিবার, ৫ জুন, ২০২২
  • ১৩২ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ মৌলভীবাজার জেলা শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ৪’ঠা জুন জাতীয় চা দিবস “চা শিল্পের সংকল্প চা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে চা শ্রমিকদের মাঝে চা দিবস তাৎপর্য তুলে ধরা ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আওতায় হতে এককালীন ৫০০০/= ( পাঁচ হাজার) টাকা চেক বিতরণ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজক মৌলভীবাজার জেলা জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইস্পাহানি টি কোম্পানি জেরিন চা বাগান ডেপুটি ম্যানেজার সেলিম রেজা চৌধুরী বলেন চা বোর্ড ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে বাঙ্গালী মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪’ঠা জুন প্রথম বাঙ্গালী চা বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। ৫০০ বছর পূর্বে সেই বনজঙ্গলে চা এর সূচনা আবিষ্কার হয়। চীনে এক রাজা সম্রাট সিনেনসি অসুস্থ হওয়ায় তৃষ্ণা পান জলে একটি পাতা পড়ে গিয়ে পানের পানির রঙ পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিক্ষা নীরিক্ষায় জল পান করার ফলে সম্রাটের তৃষ্ণা অসুস্থতা ক্লান্তি তন্দ্রাছন্না দূর হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি এই পাতা চাষ এর প্রচলন শুরু করতে বলেন। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে একবারে সরল স্বাস্থ্য সম্মত পানীয় হচ্ছে চা। চীনের ডাক্তার ভাষায় চা খান শরীর সতেজ হন অর্থ্যাৎ চা পান করিলে রোগের ঔষদ খাওয়া লাগবে না। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সরকার এর কাছে চা’ কে জাতীয় পানীয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবী জানান।

বিটিআারআই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন আজ ২ য় চা দিবস এই মাহেন্দ্রক্ষণ দিনটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে ৪’ঠা জুনে বাঙালি প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ১৯৫৮ সাল ২৩’ শে অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্বকালে জাতির পিতা চা শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটা সেক্টরের চা শ্রমিক ভাইবোনদের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হন।১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর তিনি চা শিল্পের প্রসারের জন্য আর্থিক অনুদান,ফ্যাক্টরী খোলা পরিচালনা নানাবিধ চিন্তাভাবনা উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন। তৎকালীন পিটিআরআই পরিবর্তে বিটিআরআই পূর্ণ নামরুপ রাখেন। আপনারা নিশ্চয় জানেন বই পুস্তকে পেয়েছেন উত্তরবঙ্গে জাতির পিতা যখন ডিস্ট্রিক কমিশনার হিসেবে ছিলেন তখন উত্তরবঙ্গে সীমানা ওপারে চা চাষ করা চা ডাল নিয়ে বাংলোতে রোপন করেছিল পরবর্তীতে তা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিকট দিয়ে চা শিল্পরে প্রসারে কাজ শুরু করেন। চা শিল্পের প্রসারে আইন প্রণয়ন ইন্ড্রাষ্টিয়াল নীতিমালা করে থাকেন যার বাস্তবায়নে আজকের চা শিল্প পেয়েছি। আমরা ১৬৮ বছরে চা উৎপাদনে রেকর্ডভূক্ত উৎপাদন করেছি। এভাবে চলতে থাকলে ১৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনে সক্ষম হব।

সভার সভাপতি মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন আজকে জাতীয় চা দিবস চা শ্রমিকদের খুশির দিন আনন্দের দিন। মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১’ ম বাঙ্গালী চা বোর্ডের চেয়ারম্যান চা শ্রমিকের প্রতি আবেগ ভালবাসা সম্প্রসারিত চা শিল্প। জাতির পিতা ও আজকে আমরা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সবাই গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের চিন্তা করি। চা শ্রমিকের শ্রম মেধা,ঘাম, রক্তরচিত চা শিল্পের সভ্যতার বিকাশ অর্জন ও অবদান প্রসার আজ চা শিল্প। আজকে বক্তাদের বক্তব্য বিভিন্ন কথাবার্তা উঠে এসেছে তা লিপিবদ্ধ করে আমরা উচ্চ পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভা পর্য়ায়ে পৌছে দিব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক আপনাদের জীবনমান উন্নয়ন চিন্তাভাবনা করেন দিনরাত ২৪ ঘন্টা যা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব হয় না। তাই তিনি রাজঘাট ইউনিয়ন বর্মাছড়া চা বাগানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল বিশিষ্ট সরকারী স্কুল নির্মান করে দিচ্ছেন।আমি উন্নয়ন পথ নকশা নামে তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি যা (১ম.২০১৬ -২০২০,২য়.২০১৬-২০২৫,৩য়.২০১৬-২০৩০) সাল পর্যন্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মৌলভীবাজার জেলায় ১৫৭২৮৭ বর্গ হেক্টর চা বাগান পতিত জমি আছে যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক গৃহিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গৃহায়ণ প্রকল্প ৩৫০ টি ঘর নিমার্ণ অর্থায়ান করা হয়েছ যা চলমানধীন। স্বাস্হ্য বিষয়ে তিনি বলেন প্রতিটি এলাকায় ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে সেখান স্বাস্থ্যসেবা নিবেন। পদ্মা সেতু সম্পর্কে বলেন পদ্মা সেতু নির্মাণ এটা আমাদের বাঙ্গালী জাতির অহংকার গর্বের বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাংলাদেশ পুলিশ কথা বললে তিনি বলেন যে কোন বিষয় থাকলে আপনাদের ইউনিয়নে বিট পুলিশিং অফিসার ২ জন নিয়োজিত আছে আপনারা সেখানে অভিযোগ করবেন। আপনাদের কষ্ট করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে শ্রীমঙ্গল থানায় আসতে হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের যেভাবে ভালবাসে আপনারাও সেভাবে ভালবাসবেন বললে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে হাত উত্তেলনে প্রসারিত করে ও সম্মতি পোষণ করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সভাপতি জহর তরফদার সঞ্চালনায় জাতীয় চা দিবস চেক বিতরণে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা, উপজেলা আওয়ামিলীগ সভাপতি,সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্ট এর সভাপতি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, কালিঘাট ও রাজঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য/ সদস্যা, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, চাশ্রমিক ও প্রমূখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা