অনেকের ঘরে খাবার নেই না খেয়েই আন্দোলনে চা শ্রমিকরা

স্মরণ সিং (বালিশিরা ভ্যালী)
  • Update Time : বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২
  • ১৮০ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকের ৩০০ টাকা মজুরী দাবী আদায়ে অটল মৌলভীবাজার জেলা অন্তর্ভুক্ত চা বাগানে চা শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরী দাবী আদায়ের জন্য রাজপথ অবরোধ করে আন্দোলন করছে।
মৌলভীবাজার জেলা শ্রীমঙ্গল উপজেলা সাতগাঁও চা বাগান ফ্যাক্টরীর সামনে বৌলাছড়া,মির্জাপুর,সাতগাঁও, মাক্রিছড়া,ইছামতি,ক্লোনল, গান্ধীছড়া চা বাগানে চা শ্রমিকরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে জড়ো হয়ে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে ৩০০ টাকা মজুরীর দাবী আদায় প্রতিবাদ করছে। চা শ্রমিক রা বলেন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২য় মা হিসেবে সম্মান শ্রদ্ধা করি কিন্তু আমাদের দুঃখ কষ্ট কান্না শুনতে পাই কি না দেখেও ভান করে। আমরা চা শ্রমিকরা নৌকায় ভোট দিয়েছি শেখ হাসিনা কে ভোট দিয়ে এছাড়া আর কেউ কাউকে ভোট দেয় নি বলতে পারবে কেউ। তারপর শেখ হাসিনা সরকার ৩০০ টাকা দরকার, ৩০০ টাকা দরকার শেখ হাসিনা সরকার বলে স্লোগান দিতে থাকে।

হবিগন্জ জেলা লস্করপুর ভ্যালী চা বাগানে চা শ্রমিকের ৩০০ টাকা মজুরী জন্য বাগান বন্ধ মিছিল সমাবেশ করেছে। লস্করপুর ভ্যালী চা শ্রমিক ছাত্র যুবরা বলেন আমরা চা বাগানে শ্রমিক পয়লা ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছি কিন্তু মালিক পক্ষ কোন সাড়া দেয় নাই আমরা ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরী না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব। চা শ্রমিক লাঞ্চিত বঞ্চিত শোষিত হয়ে আসছে এবং আমদের বাচ্ছাকাচ্ছারা এতো পড়ালেখা করেছে কিন্তুক বাগানে চাকরী পাচ্ছে নাই। বাহিরে সরকারী চাকরী গেলে বলে চা বাগানে লোক জায়গা জমি নাই দলিল কাগজপত্র নাই চাকরীতে নিবে না। আমরা কতোভাবে নির্যাতিত হচ্ছি আর না আমাদের ৩০০ টাকা মজুরী দিতে হবে দিতে হবে।

মৌলভীবাজার জেলা বড়লেখা উপজেলা সমনবাগ,নিউ সমনবাগ,পাথারিয়া,দক্ষিণ সমনবাগ চা শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে চা শ্রমিক মজুরী দাবী আদায় একাত্মতা পোষণ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আপনাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবী আদায়ে আমরা একমত আছি। আপনাদের ঘামের ফসলের মাধ্যমে আমার বেতন অর্থনীতি উন্নয়ন হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য ৫০০০করে টাকা উন্নত মানের গম দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের মজুরী ৩০০ টাকা নিজে ঠিক করে দিবেন কোন রকম দুঃশ্চিন্তা করবেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার চা শ্রমিকের মজুরী সমবেদনা জানিয়ে বলেন আপনাদের দাবী ঢাকার উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছছে। বিনীত অনুরোধ আপনারা রাস্তা অবরোধ উঠিয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান।

বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ বলেন আপনাদের মজুরী বিষয় নিয়ে আমরা দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছি মাননীয় বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মহোদয় গতকাল ১২.৩০ ঘটিকার সময় মন্ত্রী পরিষদে যোগাযোগ করেছেন। আমরা জেনেছি আগামী শনিবার ২৭.০৮.২০২২ ইং তারিখে আপনাদের নেতৃবৃন্দের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করবেন। তাই ২৭ শে আগষ্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আর ছোট ছোট সোনামনিরা মা বোনেরা এই পখর রোদে রাস্তা অবরোধ করতে এসেছেন তা রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায়ে সবাই দেখছেন। আপনাদের দাবী আমিও একমত পোষণ করি। আপনারা ছোট্ট সোনামনিদের নিয়ে ঘরে ফিরে যান।

বড়লেখা অবরোধ চা শ্রমিকরা বলেন আজ ১৫-১৬ দিন আমরা কর্মবিরতি পালন করছি কিন্তু কোন নেতা কর্মীরা দেখতে আসে নাই। কান্নায় ভেসে গিয়ে বলেন আমাদের বাড়িতে “চাল নাই ডাল নাই খাইতে পারতেছি না আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক কষ্টে আছে না খেয়ে”।

আমরা যখন রাজপথে নেমেছি তখন রাজনীতি নেতারা প্রশাসন মানুষেরা এসে আমাদের সাথে কথা বলে রাজপথ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য। শুধু ভোটর সময় আসে ভোট চায় আর পরে কোন দেখা নাই। আমাদের দাবী ৩০০ টাকা মজুরী মানতে হবে মানতে হবে।
আমাদের সাথে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিন ভার্চুয়াল ভিডিও কনফারেন্সে বলে দিলে আমরা আর রাজপথে নামতাম না।

বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি বলেন আমরা চা বাগানে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করেছি কেউ কোন খোজ খবর নেই নাই আজ ১৬-১৭ দিন হয়ে মজুরী কোন সিদ্ধান্ত পায় নাই। যদি ৩-৪ দিন ভিতরে বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আমরা আবার রাজপথে নামব। ” আমরা বুক দিব, পিঠ দিব না”।

এদিকে তথ্য নিয়ে জানা যায় কুলাউড়া, রাজনগর,কমলগন্জ,জুড়ি,শ্রীমঙ্গল উপজেলা সবকটি চা বাগানে চা শ্রমিকেরা মালিকপক্ষের ১৪৫টাকা দৈনিক মজুরী প্রত্যাখান করে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরীর জন্য চা শ্রমিক ছাত্র যুব সবাই মিলে একাত্মতা পোষণ করে চা বাগান আন্দোলন চলমান ও বেগবান রয়েছে।
যখন থেকে ন্যায্যগত মানসম্মত মজুরী ৩০০ টাকা দিবে না ততদিন চা শ্রমিক আন্দোলন চলতে থাকবে।

সিলেট জেলার সিলেট ভ্যালী অন্তর্ভুক্ত চা বাগানসমুহ আজকেও ৩০০ টাকা মজুরীর দাবিতে চা শ্রমিক আন্দোলন ও বাগান বন্ধ ছিল।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বালিশিরা ভ্যালী ভাড়াউড়া চা বাগানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সবুজ হাজরা পার্মানেন্ট চা শ্রমিক কাঁচা স্যাঁতস্যাঁতে বসবাসের অযোগ্য ছনের ছাউনি ইকরের বেড়া বেষ্টনী বিশিষ্ট ৮-১৬ হাত ঘরে পরিবারে ৪ সদস্য নিয়ে বসবাস করছে। তিনি বলেন কোম্পানি পক্ষ থেকে আমাকে এই ঘরটি দিয়েছে।

বুরবুরিয়া চা বাগান গিয়ে দেখা যায় রুপা রিকিয়াশন অস্থায়ী চা শ্রমিক হিসেবে বাবা কাজ করে মৃত্যুবরণ করেছে পরবর্তীতে আমি কাজ করলেও পার্মানেন্ট শ্রমিক হতে পারি নাই “আজ দিব কাল দিব বলে পুরা বছর কাটাই গেল” এখন আমরা আরেক চা বাগানে গিয়ে চা পাতার তোলার কাজ করে সংসার চালায়।

ভাড়াউড়া চা বাগানে এক যুবকের কাছে জানতে চাইলে বলেন আমরা ১৫-১৬ দিন বাগানে মজুরী ৩০০ টাকা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছি কোন রাজনীতি নেতা কর্মীরা আসে না। ভোটের সময় আসে আমাদের চা শ্রমিকে লোভ লালসা দেখিয়ে ভোট নিয়ে যায় এখন কারও কোন দেখা নাই। চা শ্রমিকের ঘরে চাল নাই ডাল নাই তেল নাই না খেয়ে মরতেছে।

২৩শে আগষ্ট কর্মবিরতি ১৫ তম দিনে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নেতৃত্বে পুলিশ সুপার, এডিসি,ইউএনও,সহকারী ভূমি কমিশনার,সিলেট সার্কেল চা সংসদ সভাপতি,উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্হানীয় চেয়ারম্যান ভাড়াউড়া চা বাগান চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য মতবিনিময় করেন। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মিয়া প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকদের দুপুর ১.০০ ঘটিকার সময় বাগানে চা পাতা তোলার কাজে পাঠিয়েছেন।

আজ ২৪শে আগষ্ট ভাড়াউড়া চা বাগানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চা শ্রমিক শূণ্য চা বাগানে চা পাতা তোলা।

জানতে চাইলে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মিয়া বলেন গতকাল আমাদের এখানে প্রশাসন সরকারী কর্মকর্তারা এসে চা শ্রমিকদের কাজে পাঠায় কাজ করে কিন্তু চা শ্রমিকরা জানতে পারে বালিশিরা ভ্যালীতে ৬৪ টি চা বাগান মধ্যে ৬৩ টি চা বাগান কাজ করছে না তাই শ্রমিকরা কাজে যাচ্ছে না। তারা বলছে সব বাগান কাজে গেলে আমরাও যাব না হলে যাবে না। চা বাগানে বুধবার পেমেন্ট সম্পর্কে জানান আমরা ৩০০ টাকা মজুরী জন্য আন্দোলন করছি কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসনের সাথে আলাপ কালে কাজে ফিরে যাওয়ার আশ্বাস দেন। মালিক পক্ষ ১৪০ টাকা মজুরী নির্ধারণ করে পরে জেনেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথায় আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা দৈনিক মজুরী করা হয়েছে তা আমরা প্রত্যাখান করেছি। পরবর্তীতে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসক বসে আলাপ আলোচনা করে পূর্বে মজুরী ১২০ টাকা কাজে যোগদানের কথা বলে। মালিকপক্ষ কোম্পানি পক্ষ আমাদের কে ১৪৫ টাকা করে মজুরী দিলে আমরা তা নিব না পূর্বের মজুরী ১২০ টাকা নিব। আমরা ছুটির ২ দিনের মজুরী পাব। পড়ালেখা খরচ, চিকিৎসা দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কথা বিবেচনা করে আমরা ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরী দাবী করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে অথবা আমাদের ন্যায্য মজুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা দিবে তা মেনে নিব।

সোনাছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কার্তিক নায়েক বলেন চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কথায় চা শ্রমিক ৩০০ টাকা মজুরী বৃদ্ধি আন্দোলনে নামি কিছু বিভ্রান্তমূলক কথাবার্তায় আজকে চা শ্রমিকে ভবিষ্যতে অন্ধকার অনিশ্চিত। তারা যাবে কার কাছে কার আশ্বাসে কাজে ফিরবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিকট দ্রুত বাস্তবায়নে বিনীতভাবে হাতজোড় করে অনুরোধ জানাচ্ছি।

জাগছড়া চা বাগানে পঞ্চায়েত সভাপতি রামলাল দাস ভূইয়া বলেন আমরা চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কথায় চা শ্রমিক মজুরী বৃদ্ধি আন্দোলন নেমেছি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দুঃখ কষ্ট লাগে যারা ক্যাজুয়েল চা শ্রমিক তাদের পরিবারে ৬-৭ জন সদস্য আছে আর বাগানে কাজ করছে একজন তারা মজুরী পাবে কিনা তা বলতে পারছি না তারা না খেয়ে থাকবে। চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন সরকারী কর্মকর্তা কেউও আসে নি।
আমরা খেয়ে না খেয়ে আছি কোন খোঁজখবর নাই।
চা শ্রমিকরা বলেন আমাদের ৩০০ টাকা মজুরী না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কাজে যাইব না। বাগান বন্ধ থাকবে।

বালিশিরা ভ্যালী মাজদিহি চা বাগানে চা শ্রমিক ছাত্র যুবরা মিলে চা বাগানে নাট মন্দির রাস্তায় মানববন্ধন ও মিছিল করে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরী দাবীর জন্য।
পরবর্তীতে চা বাগানে চা শ্রমিক মজুরী ৩০০ টাকা যতদিন পর্যন্ত দাবী আদায় না হয় ততোদিন পর্যন্ত চা বাগানে অবস্থিত দেশি মদের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্যবন্ধ থাকবে।

চা বাগানের সচেতন মেনকা মুন্ডা ও ছেলেমেয়েরা বলে চা বাগানে আর কেউ মদ হাড়িয়া গাজা বিক্রি করতে পারবে না যদি কেউ বিক্রি করে আমরা জানতে পারি তাহলে আমরা বাগানে সবাই তার বাড়িতে হানা দিব।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল নিকট জানতে চাইলে বলেন আমরা ৩০০ টাকা মজুরী দাবীর জন্য কর্মবিরতি ধর্মঘট আন্দোলন করেছি। পরবর্তীতে শ্রম মন্ত্রণালয় মহাপরিচালক, স্হানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসন এর মধ্যস্থতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশক্রমে চা বাগানে কাজে ফিরার আলোচনা আসে। কিন্তু চা শ্রমিক ভাই বোনেরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরী জন্য রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৭.০৮.২০২২ ইং তারিখের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে কথা জানতে চাইলে বলেন আমি তা এখনো জানি না এ রকম কোন চিঠি পাই নায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব মহোদয়ের সাথে বসার কথা ছিল তা বাতিল হয়ে গেছে। আগামী কালকে ২৫.০৮.২০২২ তারিখ বসার কথা ছিল তাও বাতিল হয়ে গেছে। যদি আলোচনায় বসে তাহলে আমরা যেকোন সময় বসতে চাচ্ছি। আমাদের বলেছে দূর্গাপুজা আগে মজুরী বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে মজুরী বৃদ্ধির আলোচনা বসবেন।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতি বিবেচনা করে দৈনিক মজুরী ৩০০ টাকা দাবী করেছি এক টাকা কম ২৯৯ টাকা হলে তা মানবো না।

সচেতন চা শ্রমিক ছাত্র যুবরা বলেন মালিকপক্ষ (ঘরভাড়া,রেশন প্রদান,শিক্ষা, চিকিৎসা, কারেন্ট বিল) প্রভৃতি চা শ্রমিক মজুরীর সাথে কোন সম্পৃক্তা নেই যা শ্রম আইন ও মজুরী বোর্ডে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে বিভ্রান্ত ভূল বোঝানোর জন্য মালিকপক্ষ এরকম মিথ্যাচার চালাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা