বাবা যদি বিদেশি হন, তাহলে তার লাশ বিদেশেই পাঠাক সরকার

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৪০৫ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃভারতের আসাম রাজ্যের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে বন্দীদের মৃত্যুর মিছিল চলছেই। গত এগারো দিনে দু’জন বন্দীর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু ঘটল। গত ১৩ অক্টোবর তেজপুর ক্যাম্পে দুলাল পাল নামের ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর ২৪ অক্টোবর গোয়ালপাড়া ক্যাম্পে ফালু দাস নামের ৭০ বছরের আরেক বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন।

এই মৃত্যুগুলি শুধু বিনা চিকিৎসায় ঘটেছে এমনও নয়, মৃতদের পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার বন্দীদের নির্মম অত্যাচার করে মেরে ফেলছে। দুলাল পালকে পাগল সাজিয়ে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে তার ছেলেরা অভিযোগ করেছেন।

ফালু দাসকে ভুল ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে তার পরিবারের লোকেরা অভিযোগ তুলেছেন। দুলাল পালের পরিবারের মতো ফালু দাসের পরিবারও লাশ নিতে চাচ্ছে না। তারা বলছেন, ভারতীয় হিসেবে স্বীকৃতি না পেলে লাশ গ্রহণ ও শেষকৃত্য করবেন না।

ফালু দাসের বাড়ি নলবাড়ি জেলার বরক্ষেত্রী গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছিল। ভারতীয় নাগরিকের নথি দেখানো সত্ত্বেও তাকে বিদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাইব্যুনাল। ফলে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ফালু দাসকে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী করে পুলিশ। তিনি উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা করায়নি সরকার।

গত ১৩ অক্টোবর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রক্তচাপের ভুল ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। এতে শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে পড়লে দায়সারাভাবে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। তখন চিকিৎসকরা জানান, ভুল ওষুধের ফলে এমন হয়েছে। তারপর চিকিৎসা শুরু হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু ঘটে।

ফালু দাসের মেয়ে সন্ধ্যা দাস শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বাবার ১৯৫৬ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। ’৬১ সালের জমির দলিলও আছে তার নামে। এরপরও বাবাকে বিদেশি সন্দেহে মামলা করে পুলিশ। বাবা গরিব মৎস্যজীবী। চাষের জমি নেই। বাড়ির এক টুকরো জমি বেঁচে ও মহাজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে মামলা লড়েছেন। ভারতীয় নাগরিকের নথিপত্র দাখিল করা সত্ত্বেও বাবাকে বিদেশি তকমা দিয়ে জেলে পুরে দেয় পুলিশ।’

মেয়ের আরো অভিযোগ, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা বাংলাভাষায় কথা বললেই ধরে নেয় বাংলাদেশি। তখন কোনও নথি যাচাই করতে চায় না তারা। জীবিতকালে বাবা ভারতীয় নাগরিকের নথি দেখানো সত্ত্বেও তাকে বিদেশি ঘোষণা করে, এখন মৃত্যুর পর বলছে লাশ আমাদেরকে বুঝে নিতে। বাবা যদি বিদেশি হন,তাহলে তার লাশ বিদেশেই পাঠাক সরকার।’

ডিটেনশন ক্যাম্পে একের পর এক বাঙালির মৃত্যুতে বিজেপি’র বিরুদ্ধে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। শুধু চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত নয়জন বন্দীর মৃত্যু ঘটেছে। রাজ্যের বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এখনও পর্যন্ত ২৭ জন বন্দীর মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে দেড়মাসের একটি শিশুরও মৃত্যু ঘটেছে। বেশিরভাগ মৃত্যুই অস্বাভাবিকভাবে ঘটছে। অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলছে বন্দীদের। বর্তমানে রাজ্যের ছয়টি ডিটেনশন ক্যাম্পে ১ হাজার ১২২ জন বন্দী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ৪৩ টি শিশুও বন্দী জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

কারণ, বাদ পড়াদের সরকার বলেছে তাদের বিদেশি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ভারতীয় বলে প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা প্রমাণ করতে না পারেন, তাদেরকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে। এজন্য মোদী সরকার বিশাল বিশাল ক্যাম্প নির্মাণ করছে। সূত্র: গণশক্তি

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা