ভারতে উইনির্ফম পরেই বাজারে ভিক্ষা করছে হোমগার্ড

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৪২৪ Time View

ভারতে এখন মন্দার বাজার। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটিতে আর্থিক দুরাবস্থার জেরে চাকরি হারাচ্ছেন বহু মানুষ। বাদ যাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করার পর মাত্র একদিনের নোটিশেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। অবস্থা যেন আরও খারাপ হচ্ছে দিনের পর দিন।

সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশে বহু হোম গার্ডকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাজেটে টাকার খুব অভাব। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত হোম গার্ডদের ডিউটি কমানো হবে। আর পাশাপাশি এই কারণেই প্রচুর হোমগার্ডদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। সরকারের এই নির্দেশ হোমগার্ডদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে।

ইতোমধ্যে প্রচুর সংখ্যক হোম গার্ডদের চাকরি থেকে সরানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন আরও অনেকে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে চাকরি চলে গেলে সংসার চলবে কী করে! নতুন চাকরি জুটবেই বা কী করে! এসব ভেবেই হয়রান হচ্ছিলেন হোম গার্ডরা। এদিকে সরকারের নির্দেশ। কিছুই করার নেই। তবে প্রতিবাদ তো হতেই পারে। সরকারের এমন নিষ্ঠুর ফরমানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন হোম গার্ডরা।

নিজেদের উর্দি পরেই বাটি হাতে নিয়ে মানুষের ভিড় বাজারে ভিক্ষা করলেন হোম গার্ডরা। এমন করুণ ছবি দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষের অনেকেরই চোখ ভিজল। উর্দি পরে হাতে বাটি নিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে ভিক্ষা চাইলেন একদল হোম গার্ড। তাদের এমন অবস্থায় দেখে প্রথমে পথচলতি মানুষ ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি। কিন্তু পরে হোমগার্ডরা বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই এখন ভিক্ষা করা ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।

পথে চলাচলরত মানুষের সিংহভাগ সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। হোমগার্ডদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানার পর প্রায় প্রত্যেকেই তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর একদল হোমগার্ড প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট করে বিক্ষোভ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। এর পরই তারা এমন অভিনব প্রতিবাদের কথা ভাবেন।

একজন হোমগার্ড এদিন বলেছেন, সরকার এভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। সংসার কী করে চলবে বুঝতে পারছি না। এত বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তার এমন প্রতিদান! সূত্র : জি নিউজ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা