নতুন মোটরযান আইনে শাস্তির ধারা ও দন্ড

ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • Update Time : রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৭৫১ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ
ধারা-৬৬ ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যাতিত মোটরযান ও গণপরিবহন চালনা শাস্তিঃ ৬ মাস কারাদন্ড/ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। ধারা-৬৭ ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তর করলে
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/ ৫০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৬৮ বিদেশী নাগরিক কর্তৃক প্রবিধানের কোন বিধান বা লাইসেন্সের শর্ত অমান্য করলে
শাস্তিঃ লাইসেন্স বাতিল,গাড়ি চালনা করতে পারবেন না/ ৩০০০০ টাকা জরিমান
ধারা-৬৯ ভূয়া লাইসেন্স প্রস্তুত,প্রদান ও নবায়ন করলে
শাস্তিঃ ৬ মাস হতে ২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড/ ১০০,০০০- ৫০০,০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-৭০ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাহার, স্থগিত বা বাতিলকৃত ব্যাক্তি কর্তৃক গাড়ি চালনা
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড / ২৫,০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-৭১ কন্ডাক্টর লাইসেন্স ব্যাতিত গণপরিবহনে কন্ডাক্টরের দায়িত্ব পালন করলে
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/ ৫০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৭২ রেজিস্ট্রেশন ব্যাতিত মোটরযান চালনা
শাস্তিঃ ৬ মাস কারাদন্ড/৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৭৩ ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন ও ব্যবহার
শাস্তিঃ ৬ মাস হতে ২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড/ ১০০,০০০ টাকা -৫০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
ধারা-৭৪ মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন না করিলে
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/ ৫০০০ টাকা জরিমান।
ধারা-৭৫ ফিটনেস বিহীন অথবা মেয়াদউত্তীর্ণ মোটরযান চালনা করিলে
শাস্তিঃ ৬ মাস কারাদন্ড/ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৭৬ টেক্সটোকেন বিহীন/ মেয়াদউত্তীর্ণ মোটরযান চালনা
শাস্তিঃ ১০০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৭৭ রুটপারমিট বিহীন/ মেয়াদউত্তীর্ণ মোটরযান চালনা
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড / ২০,০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৭৮ বিদেশী নাগরিক কর্তৃক নিজ দেশের মোটরযানের রুটপারমিট গ্রহণ না করিলে
শাস্তিঃ ৩০০০০ টাকা জরিমানা
ধারাঃ ৭৯ ব্যক্তিগত মোটরযান
বানিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করিলে,
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড / ২৫০০০ টাকা জরিমানা এবং ১ পয়েন্ট কর্তন।
ধারা- ৮০ গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শনে ব্যর্থ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ১ পয়েন্ট কর্তন।
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/১০০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৮১ কন্ট্রাক্ট ক্যারিজের( সিএনজি) মিটার অবৈধভাবে পরিবর্তন,অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা দাবি করা।
শাস্তিঃ ৬ মাস কারাদন্ড/৫০০০০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১ পয়েন্ট কর্তন।
ধারা-৮২ মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে বা তাৎক্ষনিক অপসারণ না করলে।
শাস্তিঃ ২ বছরের কারাদন্ড/ ৫০০০০-৫০০,০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-৮৪ মোটরযানে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিত মোটরযানের আকার পরিবর্তন করলে,
শাস্তিঃ ১ বছর হতে ৩ বছর কারাদন্ড/ ৩০০,০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৮৫ ট্রাফিক সাইন বা সংকেত অমান্য করলে
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/ ১০০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৮৬ অতিরিক্ত ওজন বহন করলে
শাস্তিঃ ১ বছরের কারাদন্ড/ ১০০০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৮৭ মোটরযানে নির্দিষ্ট গতিসীমা লংঘন করলে
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড/ ১০০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-৮৮ নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত মাত্রার শব্দ সৃষ্টি বা হর্ণ বাজানো বা কোন যন্ত্র স্থাপন
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড/ ১০০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-৮৯ পরিবেশ দূষনকারী কালো ধোয়া বা এইরূপ গাড়ি ঝুকিপূর্ণ গাড়ি চালনা
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড /২৫০০০ টাকা জরিমানা
ধারা- ৯০ অবৈধ পার্কিং বা নির্দিষ্ট স্থান ব্যাতিত যাত্রী বা পন্য উঠানামা করা
শাস্তিঃ ৫০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা-৯১ মহাসড়কে দ্রুতগতির বিধিবিধান লংঘন করলে
শাস্তিঃ ৫০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৯২ (১)মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলী লংঘন করলে-
( মদ্যপান সেবন,কন্ডাক্টর কর্তৃক গাড়ি চালনা,উল্টো পথে গাড়ি চালনা,মোটরসাইকেলে ৩ জন আরোহন ও হেলমেট বিহীন চালনা,চলন্ত অবস্থায় যাত্রী উঠানামা করা ও ফুটপাতে গাড়ি চালনা)
শাস্তিঃ ৩ মাস কারাদন্ড / ১০০০০ টাকা জরিমানা।
ধারা- ৯২ (২) মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলীর ২য় অংশের লংঘন (মোবাইল ফোনে কথা,সিটবেল্ট না বাধা,খারাপ আচরণ,অতিরিক্ত যাত্রী বহন,সংরক্ষিত আসনে অন্য যাত্রী বহন)
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড/ ৫০০০ টাকা জরিমানা
ধারা- ৯৩ বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ মোটরযানে পরিবহন
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা
ধারা-১০২ আদেশ পালন ও তথ্য প্রদানে অপারগতা
শাস্তিঃ ১ মাস কারাদন্ড /১০০০০ টাকা জরিমানা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা