শ্রীমঙ্গলে সার্বজনীন মঙ্গচন্ডি ও ভৈরব মন্দিরে ৪র্থ বারের মতো চুরি

সুদিপ কৈরী, বালিশীরা ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৮০ Time View

মৌলভীবাজার জেলার অধিনস্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার, সাত গাঁও চা বাগান, পশ্চিম আলিশারকুল, বড় পাড়ায় চতুর্থ বারের মতো শ্রী শ্রী সার্বজনীন মঙ্গলচন্ডি ও ভৈরব মন্দিরে চুরি করা হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার, সাত গাঁও চা বাগান, পশ্চিম আলিসারকুল ,বড় পাড়ায় আজ ৪/১১/২০১৯ ইং তারিখ রোজ সোমবার ভোর সকাল প্রায় ৫.০০ টার সময় স্থানীয় ভক্তবৃন্দরা পূজা করতে শ্রী শ্রী সার্বজনীন মঙ্গলচন্ডি ও ভৈরব মন্দিরে যায় এবং উক্ত স্থানে গিয়ে উনারা দেখতে পান কে বা কাহারা যেন শ্রী শ্রী সার্বজনীন মঙ্গলচন্ডি ও ভৈরব মন্দিরের গ্ররীল ও দান বাক্স ভেঙ্গে টাকা পয়সা ও পূজার সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে।

উক্ত বেপারে শ্রী শ্রী সার্বজনীন মঙ্গলচন্ডি মন্দিরে সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র পাল বলেন আমরা অনেক দিন যাবত অনেক সুখ শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজা উদযাপন করে আসছি কিন্তু এই কয়েক বছর থেকে এই পর্যন্ত আমাদের মন্দিরে চার বার চুড়ি হয়েছে আমরা সবাই তার সঠিক বিচার চাই যাতে ভবিষ্যতে এই রকম আর না হয়।

সাত গাঁও ইউ.পি ও ভুনবীর ইউ .পি টি এস এস এর সভাপতি মহেশ বেসরা ও রুপন ভট্টাচার্য বলেন আমাদের এই মন্দিরের নতুন করে চুড়ি হয় নি এই টা ৪ বারের মতো তাই আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ততি দ্রুত গতিতে অপরাধিকে গ্রাপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করার জন্য।

এই বেপারে সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটি সহ সভাপতি ও সহ সম্পাদক সুদীপ কৈরী ও সবুজ অলমিক বলেন আমরা নিজে মন্দিরে গিয়ে দেখলাম অত্যান্ত দুঃখের বিষয় এই শ্রী শ্রী সার্বজনীন মঙ্গলচন্ডি ও ভৈরব মন্দিরে এই পর্যন্ত চার বার চুড়ি হয়েছে । আমার সবাই প্রসাশনের সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি । উনারা আরো বলেন আমাদের পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য সহযোগিতা লাগবে আমার করবো।

উক্ত বেপারে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই সুমন চন্দ্র হাজরা বলেন উক্ত ঘটনা আসলে অত্যান্ত দুঃখ জনক আমরা খুব দ্রুত এর সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছি বলে জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা