নাগা চুক্তিতে উদ্বিগ্ন মনিপুর, আসাম, অরুনাচল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৫৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃগত ৩১ অক্টোবর নাগা গ্রুপগুলোর সাথে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে ‘বিপুল সাফল্য’ অর্জন করেছে, সে বিষয়টি প্রকাশ করতে ‘বিলম্ব’ হওয়ায় মনিপুর, অরুনাচল প্রদেশ ও আসামে উদ্বেগ বাড়ছে।
মনিপুরে বিক্ষোভ চলছে। মেইতেই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী গ্রুপগুলো আশঙ্কা করছে যে সরকার হয়তো এই তিন রাজ্যে নাগা প্রাধান্যপূর্ণ এলাকাগুলোকে একীভূত করার নাগাদের দাবি মেনে নেবে। অন্যদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বনান্দ সানোয়াল বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে বৈঠক করে নাগা চুক্তি নিয়ে রাজ্যের কিছু অংশে সৃষ্ট আশঙ্কা আর উদ্বেগের কথা জ্ঞাপন করেছেন।

চুক্তি সইয়ের নামে অরুনাচল প্রদেশের নাগা প্রাধান্যপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা ‘ভূখণ্ডগত অখণ্ডতায়’ প্রভাব ফেলে এমন কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করার হুমকি দিয়েছে অল অরুনাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।

নাগা গ্রুপগুলোর সাথে চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে তিনটি রাজ্যের সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করা হবে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও এসব ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য নাগা চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গঠিত ৫টি নাগরিক সংস্থার জোট কো-অর্ডিনেশন কমিটি ফর ইন্টিগ্রেটি অব মনিপুরের এক নেতা বলেন, কেবল আশ্বাসে কোনো কাজই হবে না। আমরা চুক্তির (তা ২০১৫ সালে এনএসসিএন-আইএমের সাথে সই করা কাঠামো চুক্তিই হোক কিংবা ৩১ অক্টোরব নাগা গ্রুপগুলোর সাথে হওয়া কথিত চুক্তি- যাই হোক না কেন) বিষয়বস্তু অবিলম্বে প্রকাশ করার জন্য কেন্দ্রের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। কেন্দ্র কেন এখনো ২০১৫ সালের চুক্তি প্রকাশ করছে না?

নাগা গ্রুপগুলোর দাবি করা ‘গ্রেটার নাগালিম’ প্রশ্নে তারা উদ্বিগ্ন। নাগাল্যান্ড ও প্রধানত আসাম, মনিপুর ও অরুনাচল প্রদেশের নাগা প্রাধান্যপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ে তারা এই ‘গ্রেটার নাগালিম’গঠনের দাবি তোলা হয়েছে। অরুনাচল প্রদেশ ও মনিপুরে অন্তত তিনটি জেলা রয়েছে নাগা প্রধান্যপূর্ণ। একইভাবে আসামের দুটি জেলায় নাগাদের আধিক্য রয়েছে।

সূত্র দাবি করেছে, সরকার এবং এনএসসিএন-আইএম ও নাগা ন্যাশনাল পলিটিক্যাল গ্রুপসহ নাগা গ্রুপগুলো আলাদা পতাকা, সংবধান ও নাগা প্রাধান্যপূর্ণ এলাকাগুলো একীভূত করার নাগাদেরদাবির ব্যাপারে কিছুটা সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। তবে ওই তিন রাজ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সনোয়ালের দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো চুক্তির আগে আসামের জনগণের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অমিত শাহের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাজ্য ও এর জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এমন কিছুই করা হবে না।
সূত্র : ডিএইচএনএস

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা