বৃক্ষরোপণের জন্য তুরস্কে জাতীয় ছুটি

নিউজ ডেস্কঃ
  • Update Time : সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৩২ Time View

বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশ জাতীয় বৃক্ষরোপন দিবস ঘোষণা করল। ১১ নভেম্বর দিনটিকে সবুজায়ন বা বৃক্ষরোপন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে তুরস্ক সরকার। গাছ বসানোর জন্য এই দিনে জাতীয় ছুটিও ঘোষণা করেছে ইউরেশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশটি। সেই হিসেবে আজ তুরস্কের জাতীয় ছুটি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ২১ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক বৃক্ষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসঙ্ঘ। তবে বৃক্ষরোপন দিবস কোনো দেশে পালিত হয় না। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়‍্যেপ এরদোগান এই দিনটির ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, প্রতিবছর ১১ নভেম্বর দেশজুড়ে কয়েক কোটি মানুষ নিজ নিজ জায়গায় অন্তত একটি হলেও গাছের চারা বসবেন। ফলে এক দিনে তুরস্কে গাছের সংখ্যা কয়েক কোটি বেড়ে যাবে।

তার কথায়, বিশ্বজুড়ে উষ্ণয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দরুন অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে সমগ্র মানবসভ্যতা। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বায়ু দূষণ কমানোর পাশাপাশি সব দেশকে নিবিড় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিতেই হবে।পাশাপাশি পরিবেশ, প্রকৃতি ও পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি এও বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ আমাদের জন্য অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ দিয়েছেন। আল্লাহর এসব নিয়ামত রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। অথচ আমরাই যদি সেগুলোর পরিচর্যা না করে উল্টা ধ্বংস করি, তাহলে মানবজাতি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এও বলেন, সবকিছু আইন করে হয় না। আমাদের বিবেকের মূল্যবোধ সম্পন্ন করতে হবে।প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে মানবিক ও প্রাকৃতিক দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই চেতনার উন্মেষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে, যদি আমরা প্রকৃত মুসলিম হই। তাহলে আমাদের মধ্যে এই বোধ জাগ্রত হবে যে, আল্লাহর সৃষ্টিরাজিকে নষ্ট বা ধ্বংস করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা যতই চাঁদে ,মঙ্গলে, মহাকাশে অভিযান করি না কেন, একটা নদী, সমুদ্র, পাহাড়,মরুভূমি কিংবা মালভূমি বানানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত,অমাবস্যা-জ্যোৎস্না, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, খরা-বন্যা , ভূমিকম্প ইত্যাদির ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

চাঁদ, সূর্য, তারা , আকাশ, বাতাস, গ্রহ-নক্ষত্র আমরা তৈরি করতে পারব না। গাছপালা, লতাগুল্ম আমরা ল্যাবরেটরিতে তৈরি করতে পারব না। অথচ পৃথিবীকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এগুলো সবই অপরিহার্য। তাই আমাদের করণীয় হল আল্লাহর এসব নিয়ামতের শোকর আদায় করা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় যত্নবান হওয়া। যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত না হয়। এরদোগানের কথায়, মনে রাখতে হবে আমরা এই পৃথিবীর স্বেচ্ছাসেবক মাত্র। তাই প্রতিটা মানুষকে পরিবেশ বান্ধব হতে হবে।
সূত্র : টিডিএন

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা