অাজ শ্রী বিরসা মুন্ডার ১৪৪ তম জন্মবার্ষিকী

লিটন মুন্ডা,লস্করপুর ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮৯৫ Time View

চা শ্রমিক ডট কম,বিরসার জন্ম উনিশ শতকে আশির দশক। উনিশ শতকের গোঁড়ারদশকের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিকাঠামোই ছিল বিরসার আবির্ভাবের ক্যানভাস। তখন কৃষক ও দিনমজুরদের ভোগান্তির অন্ত ছিলনা। একদিকে ইংরেজ সরকারের শাসন, অন্যদিকে জমিদারের অত্যাচার। আর দু’দিক দিয়েই আর্থিক ও দৈহিক শোষণ। রক্তচোষা বাদুড়ের মতো শরীরের সমস্ত শক্তি চুষে ফেলত সাহেবরা। বেগার খাটা, জমি থেকে বেদখল করে দেওয়া ছিল রোজকারঘটনা। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ছিল দুর্ভিক্ষ। ছিল মহামারী। বলা হয় জেলে থাকাকালীন বিরসা মুণ্ডাও কলেরায় মারা গেছেন। জঙ্গলের আদিবাসিদের ক্রীতদাসে পরিণত করতে চেয়েছিল সাহেবরা। কিন্তু তারা সফল হয়নি।আদিবাসিরা বরাবরই স্বাধীনচেতা। পরাধীনতার বেড়ি ছিঁড়ে তারা বরাবর বেরোতে চেষ্টা করত। তারা স্বাধীনতার লাভের জন্যে চোয়াল শক্ত করে লড়াই করছিল। লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে ও লড়াইয়ের হার জিত দিয়ে তারা আগামী দিনের কোন বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জমিদার ও জাগিরদারদের হাতে নির্যাতলের জ্বালার নির্যাস থেকে তৈরি হচ্ছিল গণচেতনার বীজ। বিরসার আন্দোলন সেই বীজটির অঙ্কুর।ঝাড়খণ্ডের মূলতঃ রাঁচি, লোহারদাগা ও গুমলা অঞ্চলে মুণ্ডানামের এক জনজাতি বাস করে। আদিবাসি সমাজে মুণ্ডা মানে গ্রামের মোড়ল। পেশাগত ভাবে মুণ্ডারা ছিলেন গ্রামের মুখিয়া বা মাথা। তখনকার সমাজে মুণ্ডা নামটির সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা জড়িয়ে থাকত। তেমনি পাহাড়িয়াজনজাতির লোকেদের সরদার বলা হল। সরদারদের হাতে এক একটা বড়সড় এলাকার তদারকির ভার থাকত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জমিদারদের ‘দেওয়ানি’ অধিকার কেড়ে নেওয়ার ফলে সরদারদেরও আধিকার খর্ব হয়। মুণ্ডাদের ঘন ঘন বিদ্রোহ ও সরদারদের বিদ্রোহ ১৭৮৯ সাল থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত চরমে ছিল। জমিদাররাও নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করত। কিন্তু আদিবাসিদের গণচেতনা ছাই ঢাকা আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলত। বারেবারে বিদ্রোহ হত। বিশেষ করে ১৮১১, ১৮১৯-২০ ও ১৮৬২ সালে জমিদারদের বিরুদ্ধে মুণ্ডাদের বিদ্রোহ ব্যাপক রূপ নিয়েছিল।বলা বাহুল্য, ইংরেজ শাসকরা ছিল চতুর। ওরা বশ্যতা স্বীকার করা হিন্দু ও মুসলমান জমিদারদের প্রচুর সাহায্য করত। সাহায্য পেয়ে অনেক জমিদার ফুলে ফেঁপে উঠল। পরোক্ষে ইংরেজরাই শক্তিশালী হত। ইংরেজ শাসকরা থখন শুধু জমিদারদেরইপক্ষে দাঁড়াত। আদিবাসিদের সুখ দুঃখ, অভাব অনটন ও রোগ ভোগ নিয়ে ইংরেজ শাসক আর তাদের অফিসারদের কোন মাথাব্যথা ছিলনা।সুবিধেবাদী বহিরাগত জমিদার বা ‘দিকু’র অধিকাংশই ছিল ভোগী। তাদের স্ফূর্তি কারা ছেড়ে আদিবাসিদের কথা শোনার সময় ছিলনা।রাঁচি অঞ্চলে ইংরেজদের অনুপ্রবেশ ও বহিরাগত জমিদারদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি মুণ্ডাদের অসহ্য লাগছিল। তার সঙ্গে সাদা সরল আদিবাসিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন, আর্থিক ও শারীরিকশোষণ সংক্রান্ত অভিযোগ মনের মধ্য গুমরে থেকে বারুদের কাজ করছিল। জাগিরদার ও জমিদাররা ইংরেজদের কাছ থেকে বিশাল বিশাল ভূকন্ডের মালিকানা আদায় করত। কখনো সৈন্যশিবির করার জন্যে জায়গার আবদারে কখনো বা মন্দির, মসজিদ বা গির্জাঘর করার নামে। এর ফলে জঙ্গলের পর জঙ্গল, গ্রামের পর গ্রাম চলে যেত জমিদারদের দখলে। পাহাড়, নদী ও রাস্তাও হয়ে যেত জমিদারদের। আদিবাসিরা জমি থেকে বেদখল হয়ে যেত। জঙ্গল ছেড়েপালাল অনেকে। জঙ্গলের অধিকার খর্ব হল। মুণ্ডারা এই ব্যবস্থাও সহ্য করতে পারতনা।বিদ্রোহের কারণ যতই গুরুতর হোক না কেন, বা মুণ্ডারা যতই ঘন ঘন বিদ্রোহ করুক না কেন, বিভিন্ন সময় জুড়ে মুণ্ডাবিদ্রোহ ওদের জন্যে কোল সুফল আদায় করতে পারেনি। বরং তারা আরও কঠিন দুরাবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। ওদিকে ইংরেজ শাসকের সুরক্ষার মোড়কে জমিদাররা দিব্যি খোসমেজাজে দিন কাটাচ্ছে। বিদ্রোহ দমন করার জন্যে ইংরেজদের কাছ থেকে সৈন্যসাহায্য পেয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো জমিদাররা বছরের পর বছর আদিবাসিদের ভয় সিঁটকে থাকছে। আবার সুযোগ পেলে নির্মম ভাবে বিদ্রোহ দমন করতে অত্যাচারী হয়ে উঠছে। প্রতিশোখস্পৃহায় অনেক জমিদারের জিভ লকলক করত।এরপর শুরু হল সরদার আন্দোলন। ১৮৫৯-৮১ সাল পর্যন্ত চলে সরদার আন্দোলন। সরদারদের লড়াইয়ের নাম ছিল ‘মুলকি লড়াই’। জমিদারদের ক্ষমতাচ্যূত করে বিতাড়িত করারই নাম ছিল মুলকি লড়াই। সরদাররা জমিদারদের অস্বীকার করতে শুরু করল। জমির খজনা দিতেও অস্বীকার করল।তাদের কথায়, তাদের পূর্বপুরুষের জমিজমায় দিকুরা অধিকার ফলায় কোন সাহসে! তারা বলত জমি, জঙ্গল আর জল তাদের ছিল। তাদেরই থাকবে। শুধু তাড়াতে হবে দিকুদের। তারা জানত একমাত্র তারাই তাড়াতে পারবে দিকুদের। কৃষকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল। ১৮৫৮ সাল থকেই সরদাররা মারমার-কাটকাট লাগিয়ে দিয়েছিল। জমিদাররাও বুঝতে পারছিল যে এ আগুন সহজে নিভবার নয়। আদিবাসিরা যুগ সুগ ধরে অভিযোগ পুষে রেখেছিল। আজ তা বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ল। জমিদারদের দখলে থাকা বড় বড় ভূখন্ড সরদারদের দখলে চলে এল। সেইসময়ে সরদাররা ব্যাপক মুক্তাঞ্চল জুড়ে স্বঘোষিত এক স্বাধীন রাজ্যের পত্তন করেছিল।এই রকম ভাবেই চলছিল। বারে বারে বিদ্রোহ দমন করা হচ্ছিল। ১৮৯০ সাল নাগাদ সরদার আন্দোলন একটি রাজনৈতিক পরিকাঠামোয় সংগঠিত হতে শুরু করল। আদিবাসিরা এই সময়ে জমি আদায়ের জন্যে আইনের দ্বারস্থ হয়।ঠিক এই সময়ে আবার একদল সরদার নিজেদের বিদ্রোহী ঘোষিত করল। ইংরেজরা এই সমস্ত বিদ্রোহীদের নাম দিল ‘নিও সরদার’। নিও সরদাররা তখনকার সংবিধানের তোয়াক্কা করতনা। ইংরেজ শাসকের আইন অমান্য করত। তারা মনে করত জমিদার নয়, ইংরেজ শাসকরাই তাদের যাবতীয় দুঃখ দুর্দশার কারণ। জমিদাররা তো ইংরেজদের প্রশ্রয় পেয়ে শক্তিশালী। ইংরেজরা না থাকলে জমিদারদের শক্তিও আপনা আপনি কমে যাবে। তাই নিও সরদাররা মনে করত ইংরেজরা তাদের পয়লা নম্বরের শত্রু। ইংরেজ শাসক ও তাদের অফিসাররা দেশ থেকে বিতাড়িত হলে তাদের কষ্ট লাঘব হবে। ইংরেজরা দেশ ছেড়ে পালালে স্বাধীনতা ফিরতে বাদ্য। ইংরেজ নাথাকলে জমিদারও থাকবেনা। জমিদাররা তো ইংরেজদের স্বার্থ সিদ্ধির যন্ত্র।নিও সরদারদের লড়াই শুরু হল। এর নাম সরদারি লড়াই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা