অাছিয়া চা বাগানের ১৫ দফা দাবী ও কর্মবিরতী

আশ্বিনী ত্রিপুরা
  • Update Time : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৯০৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকম,চট্রগ্রাম ফটিকছড়ি ভূজপুরের অাছিয়া চা বাগানে চা শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবী নিয়ে কর্মবিরতী অান্দোলন।

বিভিন্নভাবে নানা কারণ ও অকারণে অাছিয়া চা বাগানের নিরীহ চা শ্রমিকরা নির্যাতিত হয়ে অাসছে বহু দিন ধরেই প্রতিবাদ করতে গেলেই পড়ছে বিপদের ফাদে কোম্পানী পক্ষ ও নানা সমস্যা দেখিয়ে ফাসিয়ে নিচ্ছে চা শ্রমিকদের শাস্তি সরুপ পাচ্ছে না নিজের সাপ্তাহিত বেতন।

অাজ ৩০ শে নভেম্বর শনিবার সকালে অাছিয়া চা বাগানের চা শ্রমিকরা ১৫ দফা দাবী নিয়ে ৩ ঘন্টার কর্মবিরতী করেন। ১৫ দফা দাবী সমূহ হলো —
অাছিয়া চা বাগানে MBBS ডাক্তার নিয়োগ ব্যবস্থা, চা শ্রমিকদের তুলে পাতা অানার যানবাহনের ব্যবস্থা, বয়স সীমার পরিপেক্ষিতে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা, ৭০০ একর বাগানের জন্য চা শ্রমিক বৃদ্ধি করা, গুরুত্বর রোগীদের ভাল উন্নতমানের চিকিৎসার সুযোগ ও অার্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ, বাগানের নিরিখের কাজ গুলো যথা সময়ে করার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ট্রাক্টরের ব্যবস্থা, চা শ্রমিকদের ঘরের দরজা – জানালা পূর্ণনির্মানের ব্যবস্থা গ্রহণ, চা শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবয়েল ও সেনিটারি লেট্রিন ব্যবস্থা, শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদেরকে স্টাফ পদে নিয়োগের সুযোগ, চা বাগানের সর্দারদের মাসিক বেতনভুক্ত করা, মহিলা চা শ্রমিকদের চা পাতা তুলা দফায় সর্দারি করার ব্যবস্থা, নূন্যতম ১০০ জন পারমেন্ট শ্রমিকদের পি এস সদস্য করা, ফক্টরিতে ট্রাফ সংখ্যা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা, চা বাগানে হাই স্কুল নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম ভ্যালি সভাপতি – নিরন্জন নাথ মন্টু, ভ্যালি সেক্রেটারি – যতন কর্মকার, অাছিয়া চা বাগানের বাগান সভাপতি – হেলাল উদ্দিন, লিটন দাশ, সপ্না মজুমদার, হারাদন, জাহের মিয়া, সফি, বিলকিছ সহ হাজার চা শ্রমিক।

বাগান ব্যবস্থাপক শ্রমিকদের এই অাশা প্রকাশ করেছে যে শ্রমিকরা যদি সঠিকভাবে কাজ করে তা হলে তাদের সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। লিখিতভাবে সুপারিশ প্রদান করা হয়, অার লিখিত সুপারিশ ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে অাছিয়া চা বাগানে অাবার পুনরায় করা হবে।।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা