পাথর ব্যবসার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরী করতে হবে-ইমরান আহমদ

কালাচান কর্মকার,সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৫৩ Time View

চা শ্রমমিক ডটকমঃবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটের পাথর কোয়ারির যা কিছু আছে এগুলো শুধু আপনার কিংবা আমার সম্পদ না। এগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। এখন যদি আমরা সব কিছু শেষ করে ফেলি তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম কি করে বাঁচবে? তাই সবাই পাথর ব্যবসার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরী করতে হবে। পর্যটনের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একটি দেশের পর্যটন শিল্প তার দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।
এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমি আশা করছি, জাফলংয়ের পাথর ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে এই এনআরবি ব্যাংক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বুধবার দুপুরে ৪র্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে খ্যাত এনআরবি ব্যাংকের ৪৩ তম জাফলং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে
এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাছির সিআইপি বলেন, জাফলংয়ে আগত পর্যটক, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সকল গ্রাহকরা যাতে কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই খুব সহজে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যাংকে লেনদেন করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আন্তর্জাতিক মানের সেবা দানের জন্য আমরা জাফলংয়ে এই ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছি। ব্যাংকটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এনআরবি ব্যাংক জাফলং শাখার ব্যবস্থাপক ফেরদৌস করিম’র সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ বেতারের সিনয়র সংবাদ পাঠক জাবেদ কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনআরবি ব্যাংকের
ভাইস চেয়ারম্যান থাতাইয়ামা কবির, পরিচালক জাহিদ ইকবাল, আমিনুর রশিদ খান, সাব্বির আহমদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসাইন, সিআইপি কাজী হাবীব, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, পূর্ব জাফলং ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান লেবু।

এ সময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জাফলং বল্লাঘাট পাথর উত্তোলন বহুমুখী সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহিম খান, স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, গোয়াইনঘাটের ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল, গোয়াইনঘাট সার্কেলের এএসপি মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল, সহ সভাপতি মো. গোলাপ মিয়া, যুগ্ম-সম্পাদক সামসুল আলম, গোয়াইনঘাট কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. ফজলুল হক, জৈন্তাপুর ইমরান আহমদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফিয়া বেগম, পূর্ব জাফলং আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মেনন, জাফলং নিউজ২৪.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক ইমরান হোসেন সুমন, তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা, আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন ছেদু,
জাফলং পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন, জাফলং ষ্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত, পিয়াইন পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, পুর্ব জাফলং যুবলীগের আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন, জাফলং ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ আহমদ প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা