উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী সনজু চৌধুরীর অবদান সমূহ

লিটন মুন্ডা লস্করপুর ভ্যালী প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৭৮ Time View

চা শ্রমমিক ডটকমঃ চুনারুঘাট উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী নির্বাচিত হয়েছেন আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু। সম্প্রতি সময়ে চুনারুঘাট উপজেলা বাচাই কমিটি এ ঘোষনা দেন। তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মত আহম্মদাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সনজু চৌধুরী যে কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মী? সরেজমিন অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরী করতে গিয়ে দেখা যায়, তার ইউনিয়নে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। ৮ বছরেরও বেশি সময়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও সাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘঠিয়েছেন। নিয়মিতভাবে মা সমাবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন ও ক্লাস করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন। আমুরোড হাই স্কুলকে কলেজে রূপান্তর, চা বাগান অধ্যুশিত এলাকায় উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন ও নালুয়া চা বাগানে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগীতায় অবহেলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত কালিশিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেনীতে উন্নতি করেছেন। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৫ ইঞ্চি টেলিভিশন, ল্যাপটপ, সাউন্ড সিস্টেম, দুইটি প্রিন্টার ও একটি কম্পিউটারসহ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণী কক্ষ সজ্জিত করেন। যাহা জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড: মাহবুব আলী উত্তাপন করলে প্রশংসিত হয়। ওই স্কুলেই ৮টি বৈদ্যুতিক পাখা, শহীদ মিনার নির্মাণ, বিদ্যালয়ের মাটি ভরাট ও গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করেন। শুধু তাই নয় বগাডুবী আব্দুল মন্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন এবং আরো দুইটি নতুন বিদ্যালয় নির্মানের জমি সংগ্রহ করে দেন। একই স্কুলে ১লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ, মাল্ডিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মাটি ভরাটের জন্য ২লক্ষ টাকা প্রদান করেন। শুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক জানান, চেয়ারম্যান পর্য্যায়ক্রমে ৫৫ ইঞ্চি দুটি টেলিভিশনসহ ২টি ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন, কম্পিউটার সেট, ৪টি সিলিং ফ্যান ও মাঠে মাটি ভরাট করেন। গাদীশাল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আকমাল জানান, অভিভাবকদের জন্য গার্ডিয়ান শেড তৈরী করে তিনি একটি মানবিক নজির সৃষ্টি করেন যা গ্রামাঞ্চলের জন্য বিরল। তিনি আরো জানান, স্কুলে ৮টি সিলিং ফ্যান, ১ সেট কম্পিউটার ও মাটি ভরাট করেছেন। এছাড়া গঙ্গানগর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন দেব রায় ও দক্ষিণ কালিশীরি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন কান্তি দেব রায় বলেন, বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য উভয়কে ৩ লক্ষ টাকা ও সিলিং ফ্যান প্রদান করেন। গেড়ারুক, রাজার বাজার, বনগাও হাজী আ: সত্তার, আড়ংবিল, ঘনশ্যামপুর, উত্তর ঘনশ্যামপুর, হাজী আবুল হাশিম ও চিমটিবিল সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা একইভাবে জানান, ডিজিটাল ক্লাসরুম, কম্পিউটার সেট, মাটি ভরাট ও সিলিং ফ্যান প্রদান করেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, সনজু চৌধুরী প্রতি বছর পিএসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচ এসসি কৃতকার্য অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে জাকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেন। শিক্ষাবান্ধব চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত সনজু চৌধুরী দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে ১৮ বছর ওই ইউনিয়নে নিরক্ষর চেয়ারম্যান থাকায় ইউনিয়নে শিক্ষার হার ৪০% নেমে আসে। তার অক্লান্ত প্ররিশ্রম ও আন্তরিকতায় ৮ বছরের মাথায় শিক্ষার হার ৮৫% এ উন্নতি হয়েছে। আগামী দিন এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মত প্রকাশ করেন এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সুশিল সমাজ। ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা- সিলেট শাহ্ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিশিষ্ঠ শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. এম এম ফারুক বলেন, সনজু চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার পর আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আমুল পরিবর্তন হয়েছে, যা গত ১০বছরের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা