কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর টাকা ছিনতাইয়ে গ্রেফতার পুলিশ কর্মী

ডেস্ক নিউজঃ
  • Update Time : শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫১৩ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ ক্যানসার রোগী বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক কর্মীকে গ্রেফতার করল গোয়েন্দা বিভাগ। গত ২১ নভেম্বর ভোররাতে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছিল মৌলালি মোড়ে।

তবে অভিযোগ দায়ের হয় ১৬ ডিসেম্বর। আটক পুলিশ কর্মী কলকাতা পুলিশের গাড়ির চালক। তালতলা থানায় কর্মরত ওই অভিযুক্ত চালক বিশ্বনাথ বিশ্বাস।

মোশারফ হোসেন নামে বছর ৪৮-এর ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের গাইবান্ধার বাসিন্দা। তিনি মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন কোলন ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে। ২০ নভেম্বর রাতে তিনি কলকাতায় ফিরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে উঠেছিলেন। পরের দিন অর্থাৎ ২১ নভেম্বর ভোরবেলায় তার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গেদে যাওয়ার ট্রেন ধরার কথা ছিল।

কলকাতা পুলিশের কমিশনার অনুজ শর্মা এবং যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মুরলীধর শর্মাকে ইমেল করে অভিযোগ পত্রে তিনি জানিয়েছিলেন, ওই দিন তার আত্মীয় গোলাম সাকলাইনকে নিয়ে ট্যাক্সিতে শিয়ালদহ যাচ্ছিলেন মোশারফ। মৌলালি মোড়ের কাছে পুলিশের পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি তাদের ট্যাক্সি দাঁড় করান। এর পর তাদের পরিচয় জানতে চান।

মোশারফের অভিযোগ, বাংলাদেশি নাগরিক শুনেই ওই পুলিশ কর্মী তাদের পাসপোর্ট এবং সঙ্গে থাকা ২৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা কেড়ে নেন। অভিযোগ, ওই পুলিশ কর্মী মোশারফ এবং তার সঙ্গীকে মিথ্যে মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে, এমনকী প্রাণে মারার হুমকি দেন।

মোশারফ বলেন,‘‘ অনেক অনুনয় বিনয় করার পর ওই পুলিশ কর্মী ৭ হাজার টাকা ফেরত দেন। বাকি ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেন।” ওই দিন ভয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি মোশারফ। পরে ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ তারা ইমেলে অভিযোগ জানান।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের গুন্ডা দমন শাখা ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। মৌলালিতে ওই দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হয়। ওই দিন মৌলালি মোড়ে কোন কোন পুলিশ কর্মীর ডিউটি ছিল তারও তালিকা তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই চিহ্নিত করা হয় তালতলা থানার পুলিশের গাড়ির চালক বিশ্বনাথকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্বনাথ উত্তর ২৪ পরগনার গোপাল নগরের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৬ ধারায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, আটককৃতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আরও কোনও পুলিশ কর্মী ওই ঘটনায় যুক্ত কী না।

অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এ দিন সকালে অভিযোগকারীকেও যোগাযোগ করা হয়।  সুত্আকলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর টাকা ছিনতাইয়ে গ্রেফতার পুলিশ কর্মী।

সুত্রঃ আনন্দ বাজার

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা