অটোচালকের বিরুদ্ধে দুই নারী যাত্রীকে দেওড়াছড়া চা বাগানে ১১ জনের ধর্ষণের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৮৩০ Time View

চা শ্রমিক ডটকম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজার জেলার দেওরাছড়া চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজনের বয়স আনুমানিক বয়স ২৮, অন্যজনের ২৪।

আটকরা হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বনশ্রী এলাকার অটোচালক ইউসুফ মিয়া, রুবেল মিয়া, আলমগীর হোসেন, সলিম মিয়া, দেওড়াছড়া চা বাগানের রবিলাল উড়াং, বিকাশ মুণ্ডা ও আবু সুফিয়ান।

ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজার শহরের পৌর পার্ক থেকে কমলঞ্জের মুন্সিবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশা রিজার্ভ করেন তারা। তাদের সঙ্গে তিন বছরের একটি শিশু ছিল। অটোরিকশাটি নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর দুই যাত্রী তোলেন চালক। তখন ওই দুই নারী বাধা দিলে চালক জানান, এরা তার পরিচিত, বিপদে পড়েছে সামনেই নামবে। পরে কমলগঞ্জ যাওয়ার পথে দেওরাছড়া চা বাগানের নির্জন যায়গায় তাদের সঙ্গে আরো ৭-৮ জন যোগ দেয়।

তারা আরো জানান, কৌশলে তারা চালককে বলেন- যা হবার হয়েছে এবার আমাদের দিয়ে আসেন। চালক তাদের নিয়ে ফের মুন্সিবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে রহিমপুর ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ খানের দোকানের সামনে পৌঁছানোর আগে এক নারী জরুরি কাজ আছে বলে দোকানে থামাতে বলেন। দোকানের সামনে অটোরিকশা থামানো মাত্র তারা চিৎকার শুরু করেন। এ সময় চালক অটোরিকশা রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে ভুক্তভোগীদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

রহিমপুর ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ খান বলেন, আমার দোকানে ঢুকে তারা অভিযোগ দেন। এ সময় চালক পালিয়ে যায়। জেনেছি তার নাম ইউসুফ মিয়া, বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বনশ্রী এলাকায়। পরে আমি পুলিশে খবর দেই।

কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর স্বামী ইউসুফ ও সলিমের নাম উল্লেখ করে গণধর্ষণের মামলা করেন। আটকরা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা