গিলানী চা বাগানের চিকিৎসক আর নেই।

বাবলু তন্তবায় লস্করপুর ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১১৪০ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের দেউন্দি চা বাগানের ফাড়ী গিলানী চা বাগানের শ্রমিক মৃতঃ ফাগু চৌহানের পুত্র চিকিৎসক ডঃ শ্রী সুদর্শন চৌহান (৬০) আর নেই। ভোর ৪ঘটিকার সময় তার হঠাৎ করে বুকে সমস্যা করে। তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালেনিয়ে যাওয়ার পথে তার পরিবারে স্ত্রী সন্তান সন্ততিদের ছেড়ে ইহলোক হয়তে পরলোক গমন করেন। তার চিকিৎসা সেবায় ২০/২৫ বছর যাবৎ রোগিদের সেবা যত্ন করে আসছে। তিনি এলএমএ (ঢাকা) রিপ্রেসার ট্রেনিং প্রাপ্ত ছিলেন । গিলানী চা বাগানের চা শ্রমিক রোগিদের সেবা যত্ন নিলেও গ্রাম শহরের রোগিদের সেবা করতেন। গিলানী চা বাগানের হেড টিলা ক্লার্ক মো: শামিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, তিনি তার পারিশ্রমিক দিক দিয়ে দেউন্দি চা বাগান সহ গিলানী চা বাগানের শতশত চা শ্রমিকদের মাঝে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যাস্ত থাকতেন। তার প্রতি সতাতা অত্র বাগানের কেউ নেই। এছাড়াও গিলানী চা বাগানের বাগান সভাপতি অমল ভৌমিক বলেন, তিনি ছিলেন অত্র বাগানের অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তার সেবা যত্নই সহস্র শ্রমিক চা বাগান কাজ করতে পারেন। গিলানী চা বাগানের কোম্পান্ডার হিসবে বিবেচিত ডাঃ প্রদিব বুনার্জী এবং সেবিকা হিসেবে বিবেচিত ডাঃ অলকা রানী রায় বলেন, সুদর্শনের দর্শনে তৃণ্যমূলে আমরা তার সাথে সহযোগীতায় উৎকৃর্ণ ছিলাম । তার সাহায্যে সাহায্যকৃর্ত করে থাকি। এদিকে সাংবাদিক বাবলু তন্তবায় দীপুর পিতা দীনেশ তন্তবায় বলেন, সহস্র শ্রমিকদের সেবায় তিনি নিয়োজিত ছিলেন। দিবারাত্রি চব্বিশ ঘন্টা তার কাছে গেলে তাকে পাওয়া যেত। তিনি শ্রমিকদের জন্য অনেক কষ্ট করতেন। চা শ্রমিকদের মাঝে অমি সাওতাঁল, জননী রায়, অঞ্জলী বাড়াইক, শিবানী চৌহান, বিমলা মুড়া এবং জীড়ামনি মুড়া সহ আরো অনেকেই বলেন, তার সেবাই আমরা যত্নকৃর্ত হয়েছি। আমরা অসুস্থ হলে আমাদের জন্য রাত জাগতেন। তার এই শোকাহত্বে অনেক অনেক শ্রমিক মা বোনেরা নয়ন জলে শোকসাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন।তার শ্বসানে সমাধিত্ব হয়েছে দুপুর ২ঘটিকার সময়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা