সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা হাওর এলাকগুলোর নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪৪ দশমিক ৮০ কোটি টাকা-

মোহাম্মদ হানিফ আহমদ সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৫১ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃসুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা হাওর এলাকগুলোর নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪৪ দশমিক ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একনেক সভার পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
প্রকল্পটির আওতায় সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা হাওর এলাকগুলোর নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। মূল প্রকল্পে ৫২টি ছাত্রদের হোস্টেল, ৩১ টি ভবন, একটি শিক্ষকদের ডরমেটরি ও ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মিত হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমানোর উপায় বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে শিশুরা খেলাধূলা করার জন্য আরো বেশি সময় পাবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ছাড়াও হাওর এলাকার অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরীক্ষা নিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। শিশুদের বইয়ের ভার থেকে মুক্ত করতে হবে। বাচ্চাদের পরীক্ষার ভার কমান। ক্লাস ওয়ান থেকে থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয়। পিইসি পরীক্ষা বা পঞ্চম শ্রেণির জন্য পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মত রয়েছে, এটা নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
একনেক সভায় মোট ৯ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং সংস্থার (সিলেট সিটি কর্পোরেশন) নিজস্ব অর্থায়ন ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ৩৪২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৪ টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। ১৭৭ টি বিদ্যালয়ের ১১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ ও উত্তরাতে ৩টি ও পূর্বাচলে ১১ টিসহ মোট ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন করা হবে।
শতভাগ ভর্তি ও শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো নিশ্চিতকরণ, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, উচ্চশিক্ষা ও পরিপূর্ণ উন্নতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা, প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার মান বাড়াতে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
একনেক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিকদের ঐক্য এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি এ শিল্পের প্রকৃত চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যেই শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনিস্টিটিউটে স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে চা শিল্পেই সুদূরপ্রসারী উন্নয়নের যাত্রা ও সার্বিক বিকাশের পথ উন্মোচন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে রব কমিশন গঠন করে চা শিল্পের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭২-৭৪ সালে চা বাগানের বিধ্বস্ত কারখানা চালু করার লক্ষ্যেই ভারত থেকে আইডিবিআই ঋণের ব্যবস্থা করে চা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম। তিনি টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

বিটিএর পক্ষ থেকে ওই সভায় জানানো হয়, দেশে চা একটি কল্যাণমূলক শিল্পের আদর্শ হিসেবে দেড় শতাব্দীর অধিক সময় ধরে গড়ে উঠেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত একজন শ্রমিক নগদ মজুরি এবং দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক বাবদ মজুরি পেয়ে থাকেন, যার পরিমাণ মজুরির নগদ অংশের দ্বিগুণের বেশি। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীদের অধিকার ও সম্মান প্রদানে চা শিল্পই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। ১৬৮ বছরের পুরোনো শিল্প হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোনো শিল্পের তুলনায় অনেক আগে থেকেই শ্রম আইন অনুসরণপূর্বক ১৯৭০ দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজের জন্য সমমজুরি নিশ্চিত করেছে।

চা শিল্পে ১৯৩৯ সাল থেকে শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রচলন করা হয় এবং মাতৃকালীন ছুটি ও আইন নির্ধারিত মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে থাকে। চা বাগানগুলো গর্ভ ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে, যা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য শিল্পে বিরল। সর্বোপরি, সবদিক থেকেই চা শিল্প অনেক আগে থেকে সুসংগঠিত একটি শিল্প।

চা শিল্পে প্রতি শ্রমিককে ২ টাকা কেজি দরে মাসে গড়ে প্রায় ৪২ কেজি চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩১০ টাকা অথবা সমপরিমান আটা দেওয়া হয়। তাছাড়া, শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চা শিল্পে প্রায় ৯৪ হাজার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য চা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে।

চা শ্রমিক ও তার পুরো পরিবারের সবাই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। অথচ অন্যান্য শিল্পে শুধু শ্রমিকরা এ সুবিধা পান। শ্রমিকদের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চা শিল্পে দুটি বড় আকারের আধুনিক গ্রুপ হাসপাতাল ও ৮৪টি গার্ডেন হাসপাতালে ৭২১ শয্যার ব্যবস্থা, ১৫৫টি ডিসপেনসারিসহ মোট ৮৯০ জনের অধিক মেডিকেল স্টাফ নিয়োজিত আছেন।

চা শ্রমিকের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, জুনিয়র ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। বর্তমানে ৪৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

চা শ্রমিকদের বসতবাড়ির জন্য বিনামূল্যে পরিবার প্রতি ন্যূনতম ১ হাজার ৫৫১ স্কয়ার ফিট জায়গায় দুটি থাকার ঘর, রান্নঘর এবং ল্যাট্রিনসহ বসতবাড়ি বাগানমালিক নির্মাণ করে দেয়। মোট ৫ হাজার ৮০০ বিঘা জমি শ্রমিকদের বসতবাড়ির জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, গবাদি পশু পালনের জন্য চারণভূমি ও রাখালের খরচও বাগানমালিক বহন করে থাকেন।

একজন চা শ্রমিক অবসর গ্রহণ করলে তার পরিবর্তে তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের একজনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা অবসরভাতা পেয়ে থাকেন এবং ২ টাকা কেজি দরে চাল বা আটা পেয়ে থাকেন। এক হিসাবে দেখা যায় যে, দৈনিক ১৭০ টাকা নগদ মজুরি হলে তার সাথে দ্রব্য ও অনগদ পারিশ্রমিক মিলে মোট মজুরি গড়ে দৈনিক প্রায় ৫৪০ টাকা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চায়ের গড় নিলাম মূল্য ২০২ টাকা এবং উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০০ টাকা। চা চাষের বহু উপাদানের মূল্য বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে চায়ের নিলাম মূল্য প্রতি কেজিতে ০.১৬% , শ্রমিক মজুরি ৭৩.৯১ % এবং উৎপাদন ব্যয় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থায় চা শিল্পে উৎপানদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে শ্রমিক-মালিককে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি সম্মান রেখে বাগানমালিকগণ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার সুদীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বিদ্যমান সুসম্পর্ক চা শিল্পের উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাচীনতম এ শিল্পের অবদান অব্যাহত থাকবে।

চা শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে যা বলছে টি অ্যাসোসিয়েশন-